আত্মহত্যাকারীর ব্যাপারে ইসলামের বিধান

প্রকাশঃ মার্চ ৩০, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক:

পৃথিবী সুন্দর। মায়ায় জড়ানো প্রতিটি স্মৃতি। চারদিক আনন্দের মহড়া। হাসিখুশি আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় পার করা। স্বতঃস্ফূর্ত জীবন গড়ে তোলা। বাবা মা, ভাই-বোনদের সঙ্গে প্রিয় সময়গুলো অতিবাহিত করা। আর কষ্টের দিনগুলোতে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া। শক্তি সাহস, মনোবল নিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া।

যখন আমি আপনি বা অন্যকেউ ব্যথিত মনকে সান্ত¦না দেয়ার কোনো দিশা পাই না, আপন সত্ত্বাকে আনন্দ করার মন্ত্র খুঁজে পাই না, তখন নিজেকে শেষ করে ফেলি। নরকে নিক্ষেপ করি। জেনেশুনে চিরস্থায়ী জাহান্নামের পথ বেছে নেই। সম্প্রতি আত্মহত্যা এক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিণত হয়েছে। দেশে বিদেশে, জেলা মহল্লা কোনো স্থান বাকি নেই। সবক্ষেত্রে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

কিন্তু আত্মহত্যা কি এর সমাধান? আত্মহত্যা কি এ থেকে পরিত্রাণের উপায়? আত্মহত্যাই কি শান্তির বার্তা? কখনো নয়। আত্মহত্যার মাধ্যমে জাহান্নাম সে চিরকাল করে নিলো। সমাজ কিংবা পরিবার সবক্ষেত্রে আত্মহত্যার দ্বারা সুফল বয়ে আনে না। বয়ে আনে শুধু ধিক্কার, মানুষের মনে তার প্রতি ঘৃণা আর লাঞ্ছনাময় আলোচনা।

আমাদের কাছে আমাদের জীবন অনেক মূল্যবান। পার্থিব জগতে এমন কেউ নেই, যার কাছে দুনিয়া অপ্রিয়। কিন্তু কিছু মানুষ এমন রয়েছে, যারা ইহকালের জীবনকে পছন্দ করেন না। তারা যদিও বাহ্যিক জীবিত। তবে ভেতরগত মৃত। কখনও ছোটছোট লাঞ্ছনা কিংবা বঞ্চনা কারণে প্রিয় সাথীদের ছেড়ে চলে যায় অনেকদূর। যেখান থেকে ফিরে আসে না কেউই। আত্মহত্যা নামক জঘন্য কাজে জড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণ সমর্থন থাকে তার আবেগ। বিবেক মরে যায় তখন। সকল ভালোমন্দ দিক অসহনীয় লাগে। মহান রব্বুল আলামীন যখন কায়েনাত সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা খুব মায়া ও দয়া দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানবজাতির জন্য নির্বাচন করেছেন পৃথিবী।

একটু চিন্তা করুন, আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবন সরংক্ষিত রাখবার জন্য কত কিছু আয়োজন করেছেন। কিন্তু আমরা অনায়াসেই মহান রব্বুল আলামীনের দেওয়া জীবনকে খুব সহজেই ধ্বংস করে দেই।

মানবজাতির জীবন কত গুরুত্বপূর্ণ, তার সুন্দর দৃষ্টান্ত সুরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে মহান রব্বুল আলামীন বলেন, এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থক সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের প্রাণের মূল্যায়ন উক্ত আয়াত দ্বারাই বুঝা যাছ। কেউ যদি কোনো কারণ ছাড়া একজনকে হত্যা করে, তাহলে পুরো মানবজাতিকে হত্যার নামান্তর হবে। আর এর শাস্তি মৃত্যু। যেমনিভাবে কোনো মুসলমান ভাই বোনকে হত্যা করার অনুমতি ইসলাম দেয় না। ঠিক তদ্রুপ আপন সত্ত্বাকেও শরীয়ত হত্যার বৈধতা দেয়নি।

কমেন্টস