ঈদে মিলাদুন্নবী এ ধুন্ধুমারের সমাধান হবে কি?

প্রকাশঃ নভেম্বর ২৭, ২০১৭

ইয়াহইয়া শহিদ।।

প্রিয়নবি সা. ইহকাল ত্যাগ করে চলে যাবার তিন শতাব্দী পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম তাঁর সঠিক ধারায়ই চলছিল। তিন শতাব্দী পর ইসলাম ধর্মে ধর্মের নামে অনেক কিছুকে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিলো ইসলাম বিদ্বেষীরা। অনেকটা সফল বলতে হয় তাদেরকে, কারণ তিন’শ শতাব্দী পরে ইসলাম ধর্মে এমন কিছু জিনিস ঢুকে গেছে, যার সম্পর্ক ইসলাম ধর্মের সাথে কোনভাবেই মিল নাই। এমন এক নব আবিষ্কৃত ঈদের নাম “ঈদে মিলাদুন্নবী”।

ঈদ, মিলাদ, নবী, তিনটি শব্দই আরবি। ঈদ অর্থ উৎসব, মিলাদ অর্থ জন্ম আর নবী অর্থ বার্তাবাহক। ঈদে মিলাদুন্নবীর বাংলা অর্থ হয়, নববিজীর জন্মোৎসব। ১২ ই রবিউল আউয়াল নির্দিষ্ট ইসলাম নামদারী একটা মহল এ জন্মোৎসবটি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। তাদের সাথে অনেকেই ইসলাম ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঈদ মনে করে সেদিন তাদের মতো উৎসবে লিপ্ত হন। আপনারা কি একবারের জন্য হলেও খোঁজ নিয়েছেন ইসলামে এ রকম কিছু ছিলো কি না!  না জানার দুর্বলতা ঢাকতে অযথা তর্কে না জড়িয়ে আসল বিষয় খোঁজে বের করেন।

তৃতীয় ঈদ পালনের বিধানঃ

ঈদে মিলাদুন্নবী নামে জন্মোৎসবটি পালন করা সর্বসম্মতিক্রমে বিদআত। অর্থাৎ নব আবিষ্কৃত বা নব সংযুক্ত। (সর্বসম্মতিক্রমে বলার কারণ হচ্ছে, যারা ঈদে মিলাদুন্নবীকে বৈধ বলে, তাঁরা ইসলাম ধর্ম থেকে এটাকে বৈধ করতে পারে না, কারণ তারা খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে এটা তারা গ্রহণ করেছে)

বিদআত বলা হয়, উপাসনা মনে করে পুণ্যের আশায় এমন কোন কাজ করা, যার সম্পর্ক ইসলামের প্রথম তিন যুগে ছিল না। যেহেতু এই ঈদের সম্পর্ক ইসলামের প্রথম তিন যুগের সাথে নাই, তাই এই ঈদ পালন করা  বিদআত।

আজব ঈদের সূচনাঃ

“ঈদে মিলাদুন্নবী ” এ জাতীয় উৎসবের ভিত্তি কোরআন ও হাদিসে বা ইসলামের প্রথম তিন যুগে পাওয়া যায় না। তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় ইসলামি যুগেও বিধর্মীরা এ জাতীয় উৎসব পালন করত। যেমন – গ্রীক, ইউনান, ফিরিয়ানা ইত্যাদি সভ্যতায় তারা স্বীয় দেবতার অনুষ্ঠান পালন করত। তাদের থেকে গ্রহণ করেছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়। খ্রিস্টানদের কাছে তাদের সবচে বড় উৎসব হল তাদের নবীর জন্মোৎসব পালন করা।  সেখান থেকেই অনুসৃত হয়ে এসেছে একশ্রেণীরর মুসলিম সমাজে।

এখন প্রশ্ন হল : কখন থেকে মুসলিম সমাজে এ অনৈসলামিক সভ্যতার অনুপ্রবেশ ঘটল? এখানে সব আলেমরা একমত যে, এ উৎসবের সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তবে তাবেয়ীনের মধ্যে ছিল না। এর পরে হয়েছে।

কিন্তু তার পরে কোন সময় কার মাধমে এ বিদআতের আবির্ভাব হলো!  এ সম্পর্কে আমরা তিন সূত্রে তিনটি তথ্য পেয়েছি।

১. আরবালের বাদশা মুজাফফর উদ্দিন কৌকুরী ৬০৪ হিজরীতে সর্বপ্রথম এই প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবি আবিষ্কার করেন। প্রতি বছর অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে এ উৎসব পালন করতে তিনি তৎকালীন প্রায় তিন লক্ষ মুদ্রা ব্যয় করতেন। বাদশাহর এই উদারতার কারণে একদল লোক তার দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তার পর থেকে বিভিন্ন দেশে এ প্রথা চালু হয়।
[তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া ]

২. হিজরী চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিকে মিসরে ফাতেমী সম্রাজ্যে এ বিদআতের উদ্ভব ঘটে। তারা সর্বপ্রথম ছয়জন ব্যক্তির জন্মোৎসব পালন করে।  ১. নবী সা. ২. আলী রা. ৩. হাসান রা. ৪. হুসাইন রা. ৫. ফাতেমা রা. ৬. তৎকালীন ফাতেমী সাম্রাজ্যের খলীফা।  তখন থেকে শিয়া বা ফাতেমী সম্প্রদায় স্ব-উদ্যোগে জাতীয়ভাবে ছয়জনের জন্মোৎসব পালন করত।
[তথ্যসূত্রঃ আল খিতাত লিল মাকরিযী ১ম খণ্ড ১৯০-১৯৯ পৃষ্ঠা]

৩. হিজরীর সপ্তম শতাব্দীর প্রথম দিকে ইরাকের তৎকালীন বাদশার পৃষ্ঠপোষকতায় দরবারী আলেম ওমার বিন মুহাম্মদ মুল্লা এর পরিচালনায় সর্বপ্রথম এ উৎসবের সূচনা হয়।
[তথ্যসূত্রঃ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া  ১৩ নং খণ্ড ১৪৭ পৃষ্ঠা]

ইসলামের প্রথম যে তিন যুগকে নবী সা. উত্তম যুগ বলেছিলেন সেই তিন যুগ  ৩য় শতাব্দীতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর ঈদে মিলাদুন্নবীর আবিষ্কার ৪র্থ শতাব্দীর পরে। বুঝতে কষ্ট হয় নানা যে, এটা ইসলামে একটি নতুন আবিষ্কৃর একটা বিধর্মী সভ্যতা। অতএব, যেহেতু এই সূচনা থেকেই ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই, তাই এই ঈদ ইসলামের নামে পালন করার কী যুক্তি আছে আপনার কাছে! ঈদে মিলাদুন্নবী বর্জন করার সময় কি এখনো আসেনি!

একটু অন্যদিকে যাই…

আচ্ছা মেনে নিলাম আপনি নবির জন্মদিন পালন করবেন! কিন্তু আপনি বলেন তো নবিজীর সঠিক জন্ম তারিখ কত? ৯ রবি. আউ. থেকে শুরু করে ২৪ রবি. আউ. পর্যন্ত সব তারিখের কথাই তো ইতিহাসবিদগণ বলেছেন। তাহলে শুধুই ১২ই রবিউল আউয়াল কেন? আচ্ছা মেনে নিলাম ১২ তারিখের মতটি বেশি, তাই ১২ তারিখেই পালন করেন। কিন্তু ১২ই রবিউল আউয়াল যে সর্বসম্মতিক্রমে নবিজীর ওফাত দিবস, তাহলে ঐদিন তো বিয়োগ ব্যথায় কাতর হয়ে থাকার কথা ছিল। তার পরিবর্তে আপনি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে কেক কেটে উৎসব করার মানেটা কী?

না কি ঈদে মিলাদুন্নবী নামে ঈদে ওফাতুন্নবী আই মিন নবিজীর মৃত্যু উৎসব পালন করছেন? ভেবে দেখেন কী করছেন!

আসলে যুক্তিতর্ক তাদের জন্যই শোভা পায় যারা কোন কাজ প্রমাণের ভিত্তিতে করে। কিন্তু বিদাতিরা তো প্রমাণ ছাড়াই “ইয়া নবি সালামলাইকা ” বলে, তাই যুক্তিতর্ক বৃথা।  যারা এখনো সেই ফাঁদে পা দেননি তাদেরকে সতর্ক করতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

(জনাব – আমাদের কি আপনাদের ঈদের নামাজ কত রাকাত বলবেন? বা কোথায় কখন কীভাবে আদায় করবো! অযু লাগবে কি না?  বা একা একা পড়লে হবে?  না কি জামাতে পড়তে হবে?  একটু জানাবেন প্লীজ।)

কমেন্টস