বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

প্রকাশঃ অক্টোবর ৫, ২০১৭

ড্যানি বড়ুয়া মুন্না-

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয়উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা আজ বৃহস্পতিবার। তবে এবার উৎসবে আগের মতো জৌলুস থাকছে না। কেবল ধর্মীয় আচার পালন করেই চলে যাবে দিনটি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ফানুস না উড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

প্রবারণা পূর্ণিমা মূলত: ভিক্ষুদের অনুষ্ঠান। তা সত্ত্বেও ইহা বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠতম সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রবারণা শব্দের অর্থ হলো আত্মনিবেদন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিণী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী সময়ে বর্ষাব্রত পালন করেন। তখন তারা বিহারে অবস্থান এবং জ্ঞানচর্চা করেন। সে সময়ে তাদের মধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তাই বর্ষাব্রত পালন শেষে তারা আশ্বিণী পূর্ণিমায় প্রবারণা করে। সেদিনে তারা যদি গোচরে এবং অগোচরে কোন ভুল করে থাকেন তার জন্য জেষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে তা জানান এবং তা সংশোধনের আহ্বান জানান। তেমনিভাবে জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুরাও নবীনদের কাছে তাদের ভুলের কথা জানাবেন। এজন্য এটি হলো ভিক্ষুদের আত্মসমর্পন ও আত্মনিবেদনের অনুষ্ঠান। একে কেন্দ্র করেই এ পবিত্র দিনে বৌদ্ধরা উৎসব করে। বৌদ্ধভিক্ষুদের এ নিয়ম হলেও এটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রযোজ্য।

প্রবারণাকে বৌদ্ধরা বলে বড় ছাদাং। এর অর্থ বড় উপোস দিবস। উপোস হলো গৃহীদের চব্বিশ ঘণ্টার জন্য অষ্টশীল ব্রত পালন করা। এদিন সকালে বৌদ্ধ নরনারী শুচি শুভ্র হবে, পরিষ্কার পোশাকে বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হয়, বুদ্ধকে পূজা দেয়, ভিক্ষুদের আহার্য দেয়, দান দেয়, অষ্টশীল ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে, দুপুরে বিহারে বিহারে ভাবনা হয়, বিকেলে আয়োজিত হয় ধর্মসভা। এতে পণ্ডিতজন অংশ নেয়, বৌদ্ধধর্মের মূল বাণীগুলি আলোচিত হয়, রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এদিন ঘরে ঘরে ভাল রান্না হয়, অতিথিদের পায়েস পরিবেশন করা হয়। দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হলো- সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো উৎসব। দেশের বিহারে বিহারে অনেক ফানুস উড়ানো হয়। ফানুস উড়ানোর উদ্দেশ্য হলো আকাশে ভাসমান গৌতমের পবিত্র কেশধাতুকে প্রদীপ দিয়ে বন্দনা করা। এসময় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নর-নারী সমবেত হয় এবং ফানুস উড়ানো উপভোগ করেন। এই তিথিতে বিহার গৃহশীর্ষে আকাশ প্রদীপ জ্বালানো হয়। লক্ষণীয় যে, এদিন সন্ধ্যায় বৌদ্ধরা পঞ্চশীল গ্রহণ করে এবং বুদ্ধমূর্তির সামনে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালায়, নবীনেরা প্রবীণদের প্রনাম করে, প্রবীণেরা ছোটদের আশীর্বাদ করে। সমবয়সীরা কোলাকুলি করে, প্রবাসীরা ঘরে ফিরে, বধুরা নাইয়র যায়।এই উৎসব মিলনের উৎসব, দূরকে নিকট এবং পরকে আপন করার উৎসব।

কমেন্টস