বাংলাদেশে ৫ কোটি ৪৪ লক্ষ মানুষ মানসিক রোগে ভোগছেন, ডাক্তার আছে মাত্র ২৫০ জন

প্রকাশঃ অক্টোবর ১০, ২০১৭

নুর হোসেন ইমন, ঢাবি প্রতিনিধি-

বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ কোটি ৪৪ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগে ভোগছেন। আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ তথ্য জানান।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০১৭ পালন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল সাইকোলজি বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ও বাংলাদেশ ক্লিনিকাল সাইকোলজি এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিমারের আয়োজন করা হয়।

“বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য” শীর্ষক এই সেমিনারটি মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেনসহ আরও অনেকে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিকাল সাইকোলজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লিনিকাল সাইকোলজি সোসাইটির সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন।

এছাড়াও আলোচনা উপস্থাপন বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি ও বাংলাদেশ ক্লিনিকাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য(শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ।

সেমিনারে মানসিক সমস্যার বাংলাদেশ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।এতে দেখা যায়, ২০১৬ সালে পরিচালিত একটি কমিউনিটি জরিপের তথ্য মতে বাংলাদেশে ৩২% মানুষ বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগে আক্রান্ত। যা ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে সংখ্যার হিসেবে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৪৪ লক্ষ।

পরিসংখ্যানে আরও দেখানো হয়, ১. কর্মক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের একজন মানুষ মানসিক সমস্যায় পড়েন।
২. বছরে সারা পৃথিবীতে মানসিক সমস্যার জন্য ক্ষতি হয় ২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. বিষণ্নতার কারণে কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর ১০% কর্মে অনুপস্থিত থাকে।
৪. প্রতিবার বিষন্নতা হওয়ার পর গড়ে ছত্রিশ কর্মদিবস নষ্ট হয়।
৫. ৫০% বিষণ্নতার রোগীই কোন চিকিৎসা পান না।

অন্যদিকে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য সারাদেশে মানসিক ডাক্তার আছে মাত্র ২৫০ জন। এছাড়া ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট আছে ৫৭ জন ও এসিসট্যান্ট ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ২০০ জন।যা এই বিশাল সংখ্যক মানসিক রোগির জন্য খুবই অপ্রতুল।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মানসিক রোগ থাকলে শুধুমাত্র এই কারণে কাউকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়া থেকে বিরত থাকা যাবে না,বরং তাদের জন্য আলাদা কোটা ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

বক্তারা কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেন এবং মানসিক চাপ থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান।

 

Advertisement

কমেন্টস