‘মন্ত্রী আমরা তো আরো অনেকদিন বাঁচতে চাই’

প্রকাশঃ জুলাই ২১, ২০১৬

সিয়াম আহমেদ-
বাবা-মার একমাত্র সন্তান অহন। খুলনার খালিশপুর থানায় পরিবারের সাথে থাকে সে।কাশিপুর সরকারি প্রা. বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।বয়স যখন মাত্র ৫ মাস তখন ধরা পড়ে থ্যালাসেমিয়া। আস্তে আস্তে অহনের অবস্থা অবনতি হতে থাকে।

প্রথমে মাসে একবার তার রক্তের প্রয়োজন হতো, মূলত অহনের শরীরে রেডসেলের উদপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় তাকে রেডসেল দেয়া হয়।

রক্ত থেকে পানি ও আয়রন আলাদা করে রেডসেল দেয়া হয় অহনকে। কিন্তু খুলনাতে রক্ত শোধনের মেশিন নেই বলে অহনের বাবা-মাকে খুলনা থেকে রক্তদানকারীকে সাথে নিয়ে যশোরে গিয়ে রক্ত দিয়ে আসতে হয়।পরের দিন আবার যশোর যেয়ে আবার রক্তের রেডসেল আলাদা করে নিয়ে আসেন, আবার সেটাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু এখন মাসে ৫/৬ বার করে তাকে রেডসেল দিতে হয়। এতে অহনের পরিবারকে প্রত্যেকবারের জন্য প্রায় তিন হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়।

ফেসবুকে রক্ত শোধনের মেশিন সম্পর্কে অহন লিখে, ‘মন্ত্রী আমরা তো আরো অনেকদিন বাঁচতে চাই। আমাদের রেড সেল দরকার শিশুদের জন্য একটা মেশিনের দাম কত? একটা মেশিন চাই।ইদানিং আমার প্রতি সপ্তাহে রক্তের দরকার হয়। আমার মা তো ক্লান্ত হয়েযাচ্ছে যশোর ও খুলনা যেতে যেতে। মন্ত্রী একটা মেশিন দিয়ে দেন না প্লিজ।’

অহনের মায়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ভারতের এক ডাক্তার দেখয়েছি তিনি বলেন অহনের ব্লাডক্যান্সার হয়েছে ব্রনমেরু প্রতিস্থাপন করতে হবে’।

ব্রনমেরু প্রতিস্থাপনে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন যা অহনের বাবার পক্ষে ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। দেশের নামিদামী সব হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তার দেখান কিন্তু কোন লাভ হয়নি। খরচ বহন সর্বস্বান্ত হয়েছেন তার পরিবার। অহনের বাবার খালিশপুর বাজারে একটি দোকান আছে। তার আয় দিয়ে এত টাকা যোগানো সম্ভব না। সমাজের বিক্তবান ও সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন তার বাবা-মা।

 

Advertisement

কমেন্টস