৬০-৭০টি ডিম নিয়ে ‘তা’ দিচ্ছে মাজারের দিঘির কুমির

প্রকাশঃ এপ্রিল ৩০, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী দিঘির মাদি কুমিরটি আবারও ডিম পেড়ে বাচ্ছা ফোটানোর জন্য ‘তা’ দিচ্ছে। গত কয়েকবছর ধরে কুমিরটি ডিমে ‘তা’ দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরে ইনকিউবেটরে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় (কৃত্রিমভাবে) ডিম রেখে চেষ্টা করেও বাচ্চা ফোটানো যায়নি।

জানা গেছে, বৈশাখের প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দিঘির উত্তর পাড়ে একটি কুমির মাটি আঁকড়ে আছে। সেখানে গর্ত খুঁড়ে ডিম ঢেকে রেখেছে মাদি কুমিরটি। এখন বাচ্চা ফোটানোর জন্য তা দিচ্ছে। মানুষ ডিমের কাছে গেলেই তেড়ে আসছে কুমিরটি। তাই ওই স্থানটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। কুমিরের ডিম পাড়ার কথা শুনে  বিরল এ দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে। কেউ কেউ আবার তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ায় কুমিরটির সামনে হাঁস-মুরগি ছুড়ে মারছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কুমিরকে কোনো হাঁস-মুরগি খেতে দেখা যায়নি।

জানা যায়, হজরত খানজাহান (রহ.) মাজারের দিঘিতে ‘কালাপাড়’ ও ‘ধলাপাড়’ নামে দুটি কুমির লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই জুটির শেষ বংশধরটি মারা গেছে। বর্তমানে দিঘিতে কালাপাড় ও ধলাপাড়ের কোনো বংশধর নেই।

২০০৫ সালে ভারত সরকারের উপহার দেওয়া ৪০টির কুমিরছানার মধ্যে ছয়টি এ দিঘিতে ছাড়া হয়েছে। ওই সময়ে ছাড়া মাদি ও পুরুষ কুমির দুটিই এখন দিঘির শেষ সম্বল। মাদি কুমিরটি কয়েক বছর ধরে ডিম পাড়লেও বাচ্চা ফুটছে না। কৃত্রিম ও প্রাকৃতিকভাবে চেষ্টা করেও বাচ্চা ফোটানো যায়নি।

মাজারের খাদেম আজাহার আলী জানান, গত ১৯ মার্চ কুমিরটি দিঘির পাড়ে গর্ত খুঁড়ে ৬০-৭০টি ডিম পেড়েছে। ওই ডিম ধুলামাটি দিয়ে ঢেকে বাচ্চা ফোটাতে তা দিচ্ছে। মাঝেমধ্যে কুমিরটি দিঘিতে নামলেও আবার ছুটে আসছে ডিমের কাছে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত কুমিরটি ডিমে তা দেবে বলে ওই খাদেম জানান।

মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী ফকির জানান, হজরত পীর খানজাহান (রহ.) এ দিঘিতে কালাপাড় ও ধলাপাড় নামে দুটি কুমির লালন-পালন করতেন। ওই জুটির কোনো বংশধর এখন আর বেঁচে নেই। এখন ভারত সরকারের দেওয়া দুটি কুমির দিঘির সম্বল। কয়েক বছর ধরে মাদি কুমিরটি ডিম পাড়লেও তাতে বাচ্চা ফুটছে না। কুমিরের বংশবৃদ্ধি না হলে দিঘিটি তার ৬০০ বছরের ঐতিহ্য হারাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাই দিঘিতে কুমিরের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুজ্জামান খান জানান, দিঘিতে একটি পুরুষ ও একটি মাদি কুমির রয়েছে। কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম—উভয়ভাবেই চেষ্টা করেও ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো যায়নি। মাদি কুমিরটিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ধারণা, পুরুষ প্রজাতির কুমিরটির শুক্রাণু মাদি কুমিরটির ডিম্বাণুতে যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন হচ্ছে না। এ কারণে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মধ্যে অ্যাভুলেশনের ব্যত্যয় ঘটছে। তা ছাড়া শতভাগ সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় পুরুষ কুমিরটির শুক্রাণুর সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কমেন্টস