Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বঙ্গোপসাগরের বুকে আরেক বাংলাদেশ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩৭ PM আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস,ভূমির ক্ষয় ও ভাঙ্গনের মত পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবন যখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তখন মেঘনা নদীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা বিভিন্ন চর ও দ্বীপকে ঘিরে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গোপসাগরের বুকে দেখা দিয়েছে আরেক বাংলাদেশের হাতছানি। সেখানে সমুদ্রের অথৈ জলে প্রাকৃতিকভাবেই বিশাল বিশাল চর জেগেছে, গড়ে উঠেছে মাইলের পর মাইল ভূখণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে শুধুই ‘ডোবা চর’ হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি চরভূমি ইতিমধ্যে স্থায়ী ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।

সেসব স্থানে জনবসতিও গড়ে উঠেছে। একই ধরনের আরও প্রায় ২০টি ‘নতুন ভূখণ্ড’ এখন স্থায়িত্ব পেতে চলেছে। বঙ্গোপসাগরে দুই-তিন বছর ধরে জেগে থাকা এসব দ্বীপখণ্ড ভরা জোয়ারেও আর তলিয়ে যাচ্ছে না, বরং দিন দিন বেড়ে চলছে এর আয়তন।

দেশের প্রাণ-প্রাচুর্যের বৈচিত্র্যময়তা রক্ষা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রাকৃতিক সম্পদেরও বড় উৎস হবে এসব নতুন চর ও দ্বীপ। তাই এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এরইমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলে জেগে ওঠা নতুন চর ও দ্বীপে বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। নতুন চরে বনায়নের সময় লবণ সহিষ্ণু জাতের ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো হবে। পুরনো চরে অন্যান্য গাছের সঙ্গে পাখিদের খাদ্যের যোগান দিতে নিম, বটসহ বিভিন্ন ফলের গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এরইমধ্যে ‘চর উন্নয়ন’ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে পাওয়া যাবে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিস (সিইজিআইএস) এর মতো সংস্থাগুলোর মতে, শিগগিরই আরও বিপুল আয়তনের ভূখণ্ড বাংলাদেশের মানচিত্রে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে পানি ও পলির ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরি। সমুদ্র বুকে জেগে ওঠা ৪০ হাজার হেক্টর ভূমিকে এখনই স্থায়িত্ব দেওয়া সম্ভব। পর্যায়ক্রমে এর পরিমাণ দুই লক্ষাধিক হেক্টরে বিস্তৃত হতে পারে। সেখানে বসবাস, চাষাবাদ ও বনায়নের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Bootstrap Image Preview