Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সড়ক উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধন, লুটপাটের এক বিরাট মওকা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:২৯ PM আপডেট: ১৬ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:২৯ PM

bdmorning Image Preview


ক্রাইম ডেস্ক-

যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক (যশোর রোড) উন্নয়নের নামে গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। সড়ক সম্প্রসারণের নামে দীর্ঘ দিন ধরে গাছ লুট করা চলছে।

সড়ক সম্প্রসারণের নামে গাছ কাটার সিদ্ধান্তকে অশুভ চক্রের জন্য লুটপাটের মওকা বলে মনে করেন ছয় পরিবেশবাদী সংগঠন। সড়ক ও বন বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ, প্রশাসক, রাজনীতিক মিলে গড়ে ওঠা একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে গাছ লুট করছে। এই অশুভ চক্রের সদস্যগন সড়ক সম্প্রসারণের নামে যশোর রোডের গাছগুলো সাবাড় করাতে দিন দিন আরো তৎপর হয়ে উঠেছেন, এরূপ মন্তব্য করেন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

এর পূর্বেও, একবার মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো আপত্তি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৩ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কোনো গাছ না কেটে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।

‘উন্নয়নের নামে যশোর রোডের মুক্তিযুদ্ধ, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বৃক্ষ নিধনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে’ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), তরুপল্লব, নাগরিক উদ্যোগ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ, গ্রীন ভয়েস।

বাপার যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিবের উপস্থাপিত যশোর রোডের গাছের ওপর একটি তথ্যচিত্রতে বলা হয়, যশোর-কলকাতা পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার সড়কের গাছগুলো বনভূমির আকারে থাকলে ৩৬ হাজার হেক্টরের বনের সমান হতো। এই গাছগুলো ৯ লাখ ১২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে ছায়া দিচ্ছে। এই সড়কের দুই পাশে ৫০ ফুট করে জায়গা ইতিমধ্যে সরকার অধিগ্রহণ করে রেখেছে। কাজেই গাছ না কেটেও সড়ক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

যেসব কর্মকর্তা গাছ কেটে সড়ক উন্নয়নের মতো পরিকল্পনা নিয়েছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি ও গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়, উক্ত সংবাদ সম্মেলনে।

অন্যদিকে,  যশোর-বেনাপোল মহাসড়কটি (যশোর রোড) চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কটির দুই পাশে নতুন-পুরোনো অনেক গাছ রয়েছে যেগুলো রেখে মহাসড়ক চার লেন করা সম্ভব না। এ কারণে জনস্বার্থে গাছগুলো কাটতে হবে। ৬ জানুয়ারি যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় জানানো হয়।

Bootstrap Image Preview