বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠেছে নতুন চর, পর্যটক আকর্ষণে বনায়ন

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২১, ২০১৭

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে বুকচিরে জেগে উঠেছে নতুন চর। লাল কাকড়া অবাধ ছুটোছুটি আর অতিথি পাখির কলকাকলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে তুলেছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর অভ্যন্তরে এচর স্থানীয় জেলেদের কাছে ‘হাইরের চর’ নামে পরিচিত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এচর ভ্রমণে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে বুধাবার বিকেলে কুয়কাটা পৌর প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, হোটেল মালিক সমিতি, টুরিস্ট সেন্টার সদস্যরা এ চরটি পরিদর্শনে যায়।

প্রায় পাঁচ হাজার একক আয়তন নিয়ে জেগে ওঠা এ চরটির আনুষ্ঠনিকভাবে এর নামকরণ করা হয় ‘চর বিজয়’। এ সময় প্রায় ২ হাজার গোল, ছইলা, কেওড়া ও সুন্দর গাছের চারা রোপন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার সৈকত থেকে টুরিস্ট বোট নিয়ে মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছানো যায় এ চরে। বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি পানিতে ডুবে থাকে। শীত মৌসুমে ধুধু বালু নিয়ে জেগে উঠে। এসময়ে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী বাসা তৈরি করে মাছ শিকার এবং শুটকি তৈরি করে জেলেরা। মানুষের খুব একটা বিচরণ নেই বলে শীতে এখানে সমাগম ঘটে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির। আবার শীত কমে আসলেই চলে যায় যে যার আপন দেশে।

চরটি ঘুরে এসে সমাজ কর্মী লুৎফুল হাসান রানা জানান, চারদিকে সাগরের অথৈই পানি। এরই মাঝে আকাশ আর মাটির সাথে মিতালী তৈরি করেছে জেগে ওঠা এক নতুন চর। লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির অবাধ বিচারণ তৈরি করেছে প্রকৃতির এক নান্দনিক সৌন্দর্য। এখানে যে কেউ আসালেই ভাল লাগবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবয় সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, সমুদ্র মাঝে সুন্দর এ চরটিকে এখন সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্রাডিং করে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে ভ্রমণ পিয়াসুদের কাছে কুয়াকাটার পর্যটন আরো বেশি আকর্ষণীয় হবে।

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আলহাজ্ব হারুর অর রসিদ বলেন, চরটির আয়তন পরিমাপ করে পর্যায়ক্রমে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে। পশু পাখির আভায়ারন্য গড়ে তোলা হবে। বুধবার আণুষ্ঠানিক ভাবে এ চরটিতে গোল,ছাইলা, কেওয়া ও সুন্দরী গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।

কুয়াকাটা টুরিষ্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, চরটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌ-পুলিশকে সাথে নিয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিরপত্তা দেয়া হবে। কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ. বারেক মোল্লা বলেন, পর্যটক আকর্ষনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

কমেন্টস