বাংলাদেশে প্রথম জন্ম নিলো উটপাখির ছানা

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২৪, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বাংলাদেশে প্রথম উটপাখির ছানা জন্ম নিলো ১৬ জানুয়ারি।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো উটপাখি ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা জন্ম দিতে পেরেছে।

উটপাখির বেষ্টনীর সামনে গতকাল সোমবার গিয়ে দেখা গেল, ভেতরে বেলেমাটির ওপর পড়ে থাকা শুকনো লতাপাতায় মড়মড় শব্দ করে বাচ্চাটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মা বাচ্চার কাছে যেতে পারছে না। বাবা বাচ্চার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। বাচ্চাটিও সুযোগ পেলেই ছুটে চলার চেষ্টা করছে। কিছুক্ষণ পর ক্লান্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে আসছে বাবার কাছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কলমিশাক, ভুট্টার অংশ বাবাই বাচ্চার মুখে তুলে দিচ্ছে। বেষ্টনীর আরেক পাশে একটি ছেলে উটপাখি বেশ কয়েকটি ডিমে তা দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, জন্মানোর প্রথম কয়েক দিন বাবার পালকে মুখ গুঁজে চুপটি করে বসে ছিল ছানাটি। দিন কয়েক যেতে না-যেতে তার চঞ্চলতা শুরু হয়।

কিন্তু উটপাখি লালনপালনে এমন ভূমিকায় বাবা কেন—পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ছেলে উটপাখি দুই থেকে তিনটি মেয়ে উটপাখিকে নিয়ে সংসার গড়ে তোলে। মা উটপাখি ডিম দেয়। একটি মেয়ে উটপাখি প্রতিবছর ১০টির বেশি ডিম দিয়ে থাকে। ডিম পাড়ার পর মেয়েদের দূরে সরিয়ে দেয় বাবা। তখন থেকে বাচ্চা ফোটার আগ পর্যন্ত ডিমে তা দিতে থাকে বাবা।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক সারওয়ার হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আড়াই বছর বয়সী পাঁচটি উটপাখি আনা হয়। এর মধ্যে দুটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। দুই থেকে চার বছর বয়স হলে উটপাখি প্রজননক্ষম হয়। সাফারি পার্কে ২০১৫ সালের শেষ দিকে মেয়ে উটপাখিগুলো ডিম পাড়ে। একটি ছেলে উটপাখি তা দিলেও ডিম ফুটে বাচ্চা জন্ম নেয়নি। গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি আবারও মেয়ে উটপাখিগুলো ডিম দিতে শুরু করে। বেষ্টনীতে বালু-মাটি দিয়ে ওরা নিজেরাই ডিম পাড়ার জায়গা তৈরি করে। এভাবে ২০টি ডিম জমা করে তারা। ১৬ জানুয়ারি সকালে উটপাখির একটি বাচ্চার জন্ম হয়।

তবে এখন উটপাখির বাচ্চাকে দর্শনার্থীদের খুব কাছে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। দূর থেকেই দেখতে হয়। একটু পূর্ণতা এলেই বাচ্চাটিকে বেষ্টনীর কাছাকাছি আসতে দেওয়া হবে।

সারওয়ার হোসেন খান বলেন, সাত দিন বয়সী উটপাখির বাচ্চাটি এখনো ধরা হয়নি। ধরতে গেলেও উটপাখিরা ছোটাছুটি করবে। পায়ে চাপা পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ধরতে না পারায় জানা যায়নি, এটি ছেলে নাকি মেয়ে। তবে উটপাখির বাচ্চাটির আকার মুরগির বাচ্চার চেয়ে একটু বড়।

দেশে এবারই প্রথম ডিমে তা দিয়ে কোনো উটপাখি নিজেই বাচ্চা জন্ম দিয়েছে দাবি করে সারওয়ার হোসেন খান বলেন, ঢাকা চিড়িয়াখানায় একবার উটপাখি ডিম পেড়েছিল। সেগুলো ইনকিউবেটরে রাখা হয়। তবে ডিম ফুটে বাচ্চা হয়নি।

একই তথ্য জানান পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। তিনি বলেন, মরুভূমিতে একটি ছেলে উটপাখি একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০টি বাচ্চা লালনপালন করে। ছেলে উটপাখির আচরণই মাকে ওদের বাচ্চাদের কাছ থেকে দূরে রাখে। সাফারি পার্কেও বাচ্চার কাছ থেকে মাকে সরিয়ে রাখতে হবে। বাবার সঙ্গে বাচ্চা উটপাখিকে আলাদা বেষ্টনীতে রাখা প্রয়োজন। সেখানে কমপক্ষে এক মাস বাচ্চাটির জন্য কৃত্রিম উষ্ণতার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, এই বাচ্চা আবদ্ধ পরিবেশে জন্ম নিয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা ৩ মিটার এবং ওজন হয় ১৫০ কেজি। তবু সে এক ঘণ্টায় ছুটে চলতে পারে প্রায় ৭০ কিলোমিটার। ছেলে উটপাখির পাখার পালকের রং কালো। মেয়েদের পালক ধূসর বাদামি। পাখা দুটি মেলে ধরলে একটি উটপাখির দৈর্ঘ্য হয় প্রায় সাত ফুট।

Advertisement

কমেন্টস