বিষকন্যাদের সামান্য স্পর্শেই মৃত্যু অনিবার্য!

প্রকাশঃ অক্টোবর ১০, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য এবং তাঁর রূপের মায়াজাল‚ দুটোর কোনওটাই অস্ত যায় না। তিনি কুহকিনী। আলো আঁধারির মোহাবেশে জড়িয়ে গেছে বিষকন্যা পরিচয়ও। ভারতীয় ইতিহাসে বহু প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত বিষকন্যারীতি। বলা হয়‚ এই ললনাদের দেহে শিরা ধমনী বেয়ে প্রবাহিত হয় গরল। তাঁদের সঙ্গে সম্ভোগ তো দূর অস্ত। সামান্য স্পর্শেই মৃত্যু অনিবার্য।

শুধু ভারতীয় সভ্যতাই নয়। অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতাতেও উল্লেখ আছে বিষকন্যাদের। সভ্যতার আদিপর্বের সেই সমাজে নির্দিষ্ট করে বেছে নেওয়া হতো মেয়েদের। যদি দেখা হতো পরমা সুন্দরীদের ভাগ্যে বৈধব্যযোগ আছে তবে তাঁদের আর স্বাভাবিক জীবনে থাকতে দেওয়া হতো না।

নন্দরাজার মন্ত্রী নাকি এক বিষকন্যাকে পাঠিয়েছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে হত্যার লক্ষ্যে। কিন্তু চাণক্যের কূটবুদ্ধিতে পাল্টে যায় শিকার। চন্দ্রগুপ্তের বদলে সে হত্যা করে বসে পর্বতককে।

আধুনিক গবেষকরা বলে থাকেন‚ অতীতের অনেককিছুর মতোই বিষকন্যা নিয়েও অতিরঞ্জন হয়েছে। সঙ্গম বা স্পর্শ বা দৃষ্টি নয়। আদপে এই সুন্দরীরা মদিরায় বিষ মিশিয়ে বধ করত শিকারকে। সাহিত্য‚ চলচ্চিত্রে ঘুরে ফিরে এসেছে বিষকন্যার প্রসঙ্গ। কিন্তু কোনও সমাজেই বিষপুরুষ দেখা যায়নি। পুরুষের ইচ্ছায়‚ অঙ্গুলিহেলনে কন্যারাই বহন করেছেন বিষ। যদিও পুরাণে এক পুরুষই নীলকণ্ঠ। কিন্তু সে তো পবিত্রতার বিষ। পঙ্কিল ষড়যন্ত্রের বিষ ধারণ করার জন্য নারীর থেকে ভাল আধার আর হয় নাকি !

কমেন্টস