শত শত তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার কারণ ‘ব্লু হোয়েল বা সুইসাইড গেম’

প্রকাশঃ আগস্ট ১৫, ২০১৭

তারিকুল ইসলাম তারেক-

সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত এবং বহুল সমালোচিত একটি অনলাইন গেম ‘ব্লু হোয়েল’ বা সুইসাইড গেম। ‘ব্লু হোয়েল’ কথাটি এসেছে সমুদ্র তীরবর্তী নীল তিমি থেকে, যাকে আত্মহত্যার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের একাধিক দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যার সাথে জরিয়ে আছে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড’ গেমটির নাম। এই গেমের কারণে সারা বিশ্বে প্রায় ১৩০ জন তরুণ-তরুণী আত্মহত্যা করে এবং বিগত ছয় মাসে প্রায় ১৬ জন আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত হয়।

অন্যান্য স্বাভাবিক গেমের মতই ব্লু হোয়েল একটি অনলাইন গেম। মোট ৫০ টি ভয়ংকর এবং আত্মনির্যাতনমূলক লেভেল নিয়ে এই গেম গঠিত। প্রথম দিকের লেভেলগুলো খুব সহজ এবং অপেক্ষাকৃত কম ভয়ংকর হওয়ায় টাস্কগুলি বেশ মজার। আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। পরে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বেরোতে পারে না। প্রথমদিকের টাস্কগুলো হলো, অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের পাঠানো ভিডিও ও ছবি দেখা, ভোর ৪.২০ এ ঘুম থেকে উঠে ক্রেইনে চড়া ইত্যাদি। ধীরে ধীরে টাস্কগুলো কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকে। একটি টাস্ক এমন ছিল যে প্রতিযোগিকে নিজের শরীরে ৫০টি নিডল (ইঞ্জেকশনের সূচ) ফুটাতে হবে এবং সেই ছবি পোস্ট করতে হতো গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে সর্বশেষ পর্যায়ে ৫০তম টাস্কের কাজ যার পূর্বশর্তই হলো আত্মহনন! ভয়ানক বিষয় হচ্ছে এই গেমটি একবার ইনস্টল করা হলে আর সহজে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

২০১৩ সালে রাশিয়ায় শুরু হয় ওই মারণখেলা। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দু’বছর পর। এই গেমটির উদ্ভাবক রাশিয়ান গেম ডেভেলপার ‘ফিলিপ বুদেকিন’। সাইকোলজির একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তিনি, যাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার অসুস্থ ক্রেইজের সাথে জড়িত এই গেমটির উদ্ভাবক। পুলিশ তাকে গেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, যেসব তরুণ তরুণী সমাজে কোন কাজে আসছে না তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে আবর্জনামুক্ত করণের জন্য এই গেমটি উদ্ভাবন করেছেন তিনি। রাশিয়ান এই গেম ডেভেলপার তার ভিক্টিমদের ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েস্ট’ বলে দাবি করেন।

বর্তমানে সাড়া বিশ্বের উদ্বেগের কারন এই মরণ গেম। ফিলিপ বুদেকিনকে আটক করে রাখা সম্ভব হলেও তার আবিষ্কৃত এই মরণ  ফাঁদকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। অনলাইনে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পরছে এই গেমটি। তরুণ সমাজকে এখনি এই গেম সম্পর্কে সচেতন করা না হলে সামনের দশকে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এই মরণ গেমটি।

কমেন্টস