বড় ভাইয়ের নাম কেটে ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা

প্রকাশঃ মার্চ ১৮, ২০১৭

রাজশাহী প্রতিনিধি-

রাজশাহীতে আহসান আলী ওরফে মুংলা (৭০) নামে এক ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বড় ভাইয়ের নাম কেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ ঘটনায় বড় ভাই আনসার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৮) বাদী হয়ে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন। নজরুল ইসলামের বাড়ি জেলার পবা উপজেলার বাগসারা নওদাপাড়া গ্রামে। তার চাচা আহসান আলী মুংলার বাড়িও একই গ্রামে।

মামলায় চাচা মুংলা ছাড়াও পবা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজশাহীর আমলি আদালত-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। বুধবার আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।

নজরুল ইসলাম এজাহারে বলেছেন, তার বাবা আনসার আলী একাত্তরে পাক হানাদারদের হাতে শহীদ হন। আনসার আলীর নাম ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ মুক্তিবার্তায় ০৩০২০১০০৪৭ নম্বরে শহীদ হিসেবে উল্লেখ আছে। কিন্তু ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের যে নামের তালিকা প্রকাশ হয়, সেখানে তার বাবার নামের পরিবর্তে চাচা আহসান আলীর নাম প্রকাশিত হয়।

এরপর তারা বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে লিখিতভাবে জানালেও ফল পাননি। নজরুল ইসলামের অভিযোগ, তার চাচা আহসান আলী জালিয়াতি করে তার বাবার নামের পরিবর্তে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি আবদুল মালেকও এই জালিয়াতিতে তাকে সহায়তা করেছেন। নজরুল ইসলামের দাবি, ২০১০ সাল পর্যন্ত তারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে মুক্তিযোদ্ধার সব সুবিধা ভোগ করছেন তার চাচা। অথচ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় রাজাকারদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

একাত্তরের ৫ জুলাই রণাঙ্গন থেকে যখন তার বাবা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে আসেন, তখন তার চাচা আহসান আলীই হানাদার বাহিনীকে খবর দিয়ে তার বাবাকে ধরিয়ে দেন এবং হত্যা করান।

এ ব্যাপারে কথা বলতে মামলার দুই আসামির অন্যতম আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি আদালতের রায় মেনে নেবেন বলে জানান। আরেক আসামি আহসান আলী কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

Advertisement

কমেন্টস