রোমের ‘গেট টু হেল’ এর রহস্য উন্মোচন

প্রকাশঃ মার্চ ১২, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

ঘটনাটি প্রায় দুই হাজার বছর আগেকার। কিছু পর্যটক হিয়েরাপোলিসের (বর্তমানে তুরস্ক) গ্রেকো-রোমান মন্দির পরিদর্শনে এসেছিলেন। তারা এলাকাটির চারপাশে ঘুরে একটি গুহার সামনে এসে পড়ল। কৌতূহলবশত তারা সামনে এগিয়ে গেল। তবে তারা নিজেরাও জানতো না তাদের সাথে কি হতে চলেছে।

সামনে যেতেই একজন পর্যটক দেখতে পেল যে এই গুহার সামনে বহুসংখ্যক মৃত প্রাণী একে একে আকাশ থেকে ঝড়ে পরছিল। পাখি, ইঁদুর, বাদুর, গরু, ঘোড়া – এরকম শত শত প্রাণীর নিথর মৃতদেহ পরে রইল মাটিতে। এ যেন একটি ভয়ঙ্কর দৃশ্য। এটি দেখে দুজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।

এই ঘটনার পর স্থানীয় মানুষদেরকে এই দৃশ্যের বিবরণ দিলে তারা প্রথমে অবিশ্বাস করে, তবে তারা নিজেরাও এই মৃতদেহ দেহে অবাক হয়ে যায়। এরকম প্রতিদিনই এই গুহাটির সামনে নতুন নতুন মৃতদেহ পরে থাকতে দেখা যেত। এই জন্যেই এই গুহার নাম দেওয়া হয় ‘প্লুটোনিয়াম’, যা গ্রিক দেবতা ‘প্লুটো’র নামানুসারে রাখা হয়েছিল।

মানুষের ধারণা, এই দেবতার জন্য উৎসর্গ করা সকল পশু পাখিই এই গুহার সামনে অলৌকিকভাবে এসে পড়তো।

অনেকেই এই গুহাটির নাম দিয়েছিলেন ‘দ্য গেট টু হেল’।

প্রাচীন রোমান লেখক এবং ইতিহাসবিদ প্লিনি দ্য এল্ডার এই ঘটনাটিকে ‘সিউয়ার অফ শ্যারন’ নামে আখ্যায়িত করেছিল। গ্রিকদের মতে,  ‘সিউয়ার অফ শ্যারন’ ছিলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে মৃতলোকদের দুনিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।

তবে এই ঘটনার দুই হাজার বছর পর এর রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছেন জার্মানির একদল বিজ্ঞানী। তাদের দাবি, এই ঘটনাটি কোন অলৌকিক ঘটনা নয়।

তারা বলেন, এই গুহার নিচে অবস্থিত এক ফোয়ারা থেকে নির্গত অতিরিক্ত মাত্রার কার্বন ডাই অক্সাইডের কারণেই এই প্রাণীগুলোর মৃত্যু হয়েছিল।

একটি যন্ত্রের দ্বারা এই এলাকার পুরো কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা পরিক্ষা করে দেখা যায়, এই এলাকায় ৪ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে, যা প্রাণীদেরকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

এই জার্মান বিজ্ঞানীদের দলের প্রধান ফান্জ সিএনএনকে বলেন, ‘কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা ৫ এর নিচে থাকাতেই মানুষ এবং পশুপাখিদের সমস্যা হতে শুরু করে। এই মাত্রা ৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছলে ঘাম থেকে শুরু করে মাথা ঘোরা এবং রক্তচাপও বৃদ্ধি হতে পারে। এরপর এই মাত্রা ১০ শতাংশের বেশি হলে অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলো মরে যেতে শুরু করবে।

এখন হয়তো বোঝাই যাচ্ছে কেন এই গুহাটিতে এতো পশুপাখির মৃতদেহ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই খাবারের সন্ধানে গুহার মধ্যে প্রবেশ করে এবং আর জীবনেও ফিরে আসে না। এমনকি গবেষণা চলাকালীন সময়েও বিজ্ঞানী দলটি বেশকিছু মৃত পাখি, ইঁদুর এবং ৭০ টিরও বেশি মৃত গুবরে পোকা খুঁজে পেয়েছিল।

রহস্যময় এই গুহাটি এখন একটি পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। অনেকেই এই রসহ্য উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন, তবে প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

কমেন্টস