ইতিহাসের সেরা ৫টি প্রেমপত্র

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আজ ফাল্গুনের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বসন্তেরও দ্বিতীয় দিন। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস- পিঠাপিঠি এই দুই দিবসকে আপন করে নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। ফাল্গুন আর ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে আজ মুখর হবে নানা বয়সের মানুষ। ফাল্গুনে গাছে গাছে ফুটেছে শিমুল ও পলাশ। প্রকৃতি সেজেছে বাহারি রঙে। আর নগরে বসন্ত এসেছে তরুণ-তরুণীর বেশভূষায়। এই উৎসবের আমেজ থাকবে আজ ভালোবাসার দিবসেও।

ভালোবাসা দিবস ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ভালোবাসার স্মৃতিচারণা, কবিতা আবৃত্তি, গান, ভালোবাসার চিঠি পাঠ ও ভালোবাসার দাবিনামা উপস্থাপনসহ নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

এদিকে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিরাও প্রেম করেছেন। তারাও লিখেছেন ভালোবাসার চিঠি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রেমপত্রই আজ ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।

কারো কাছে সেগুলো গবেষণার বিষয়বস্তু, কারো কাছে আবার জ্ঞানের। কান্ট্রিলিভিং ডট কম অবলম্বনে ইতিহাসের কয়েকটি সেরা প্রেমপত্র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলঃ

প্রেমিকা ক্যারোলিনকে মহাকবি বায়রন 

প্রিয় ক্যারোলিন,

জানি কেমন আছ। তবু জানতে চাই, কেমন আছ তুমি? তোমার চোখের জল হয়তো কখনো দেখা হবে না আমার। অনুরোধ, তোমার স্বামীও যেন কখনো না দেখে।

ক্যারোলিন, তোমার আমার যত ভুল, ভালোবাসায়। কেউ এর জন্য অপরাধী নয়। শুধু শুধু কাউকে কষ্ট দিও না। স্বামীকে ভালোবেসো। তাকে কষ্ট দিও না। পারলে আমাকে মাফ করে দিতে বলো। তোমার শক্তি আমি জানি, বিশ্বাস করি, তুমি সব সামলে উঠবে। ঈশ্বর তোমার সঙ্গে আছে। ভালো থেকো।

স্ত্রী কেমিকে উইনস্টন চার্চিল

প্রিয়তমা কেমি,

মাদ্রাজ থেকে লেখা তোমার চিঠিতে তুমি কয়েকটি শব্দ লিখেছ, যে শব্দগুলো আমাকে ভীষণ আবেগাপ্লুত করেছে। আমি তোমাকে বলতে পারব না, আমি কতটা আনন্দিত হয়েছি। আমার সব সময় মনে হয় তোমাকে আমি কিছুই দিতে পারিনি, যতটা তুমি দিয়েছ। তোমার আমার একসঙ্গে কাটানো সময়গুলো আজ আমাকে কতটা তাড়িত করে বোঝাতে পারব না। এর কোনো বিশেষণ নেই। সত্যি, তোমার কাছে অনেক ঋণ আমার।

সময় খুব দ্রুত চলে যায়, কিন্তু আমাদের একত্রিত সময়গুলো কত বড় আমরা কি জানি? শত বছরের ঝড়-ঝাপটার চেয়ে আমাদের এ কটি বছর অনেক ভালো নয় কী?

জোসেফিনকে লেখা নেপোলিয়নের চিঠি

জোসেফিন,

গতকাল সারাটি বিকাল কাটিয়েছি তোমার পোট্রেটের দিকে চেয়ে থেকে। কী করে পারো তুমি বলতো এই কঠোর মনের যোদ্ধার চোখেও জল আনতে? আমার হৃদয় যদি একটি পাত্র হয়, তবে সেই পাত্রে ধারণ করা পানীয়ের নাম দুঃখ। তুমি কি তা বোঝো জোসেফিন? আবার কবে তোমার আমার দেখা হবে? সে অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না! সে অপেক্ষায়

অ্যাডেলকে ভিক্টর হুগো

প্রিয়তমা,

দুটি আনন্দময় সন্ধ্যা কাটানোর পর এবং আগামী দিনের আগে আজ রাতে আমি কোথাও যাব না কিন্তু। তবু তোমাকে লিখতে বসেছি।

প্রিয়তমা অ্যাডেল আমার, এমন কী আছে, আমি তোমাকে বলিনি? দুদিন ধরে আমি আমার নিজেকে জিজ্ঞেস করছি, এই সুখকর মুহূর্তগুলো স্বপ্ন নয়তো?

তুমি এখনো জানো না অ্যাডেল, আমি আমাকে কতটা হারিয়ে ফেলেছি। হয়তো আমিও জানি না।

যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো তবে তুমি জানো এ আমার কেমন সুখ। এটা আমি বর্ণনা করতে পারব না।

আমার অ্যাডেল, এ আনন্দের ভাষা নেই। কেন বলতে পারো? এটা কী এ কারণে যে, মানুষের ভাষায় এ সুখ প্রকাশের শক্তি নেই? প্রিয়তমা আমার, সম্ভবত আর মাত্র কয়েকটা মাস। তারপর তুমি আমার বুকে ঘুমাবে, জাগবে, আমার বুকে থাকবে। তোমার সব মুহূর্তের সব ভাবনা, তোমার তাকিয়ে থাকা শুধু আমার। আমার অ্যাডেল, আমার পরী! দেবদূত!

এখন আমি তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে। কিন্তু তুমি ঘুরে বেড়াও আমার চারপাশজুড়ে। ভালো থেকো।

প্রেমিকাকে গিটারিস্ট জিমি হ্যান্ডরিক্সের প্রেমপত্র

লিটল গার্ল,

পৃথিবীর সব ভালোবাসা তোমার মাঝেই নিহিত। তুমি তোমার ভালোবাসার ধারায় সহস্র স্রোতে আরও বিস্তৃত হও। তুমি ফুটন্ত গোলাপের মতো শুভ্র।

আমি তোমাকেই ভালোবাসি। অনেক অনেক ভালোবাসা।

কমেন্টস