যে কাজ মায়ের সঙ্গে জিনার চেয়ে নিকৃষ্ট

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৮, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মানবতার ধর্ম ইসলাম। মানুষের জীবন চলার পথে প্রয়োজন জীবনোপকরণের। এ জীবনোপকরণের জন্য প্রয়োজন হয় ঋণ নেয়ার। যদি ঋণ নেয়ার সময় অতিরিক্ত বিনিময় নেওয়া হয় তাহলে তা মানবতাবোধ ও ধর্মের দৃষ্টিতে মহা অন্যায়। অর্থ সম্পদ মহান আল্লাহর দান। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন, তাকে অর্থ-সম্পদের নিয়ামত দান করেন। পৃথিবীতে এমন অহরহ ঘটনা রয়েছে যে সকালবেলা ছিল কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক। কিন্তু একটু পরই সে পথের ফকির হয়ে রাস্তায় বসেছে মানুষের কাছে হাত পাততে।

সুদের পরিচয়, সুদের আরবি পরিভাষা হচ্ছে রিবা। আরবি রিবা শব্দকে উর্দু ও ফারসিতে সুদ বলে। বাংলা ভাষায় সুদ শব্দটি রিবার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ ঋণ দিয়ে আসলের ওপর বেশি নেয়া। আরবি অভিধান লিসান আল আরব রিবার শাব্দিক অর্থে লিখেছে, ‘বৃদ্ধি, বাড়তি, অতিরিক্ত, সম্প্রসারণ বা প্রবৃদ্ধি।

ইসলামে রিবা বলা হয় যা প্রদত্ত ঋণের ওপর ঋণের শর্ত হিসেবে অতিরিক্ত কিছু আকারে বা কোন সুবিধা ধার্য করে আদায় করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের ঋণের বিনিময়ে পূর্ব নির্ধারিত হারে বা পূর্ব নির্ধারিত না থাকলেও প্রদত্ত ঋণের অধিক অর্থ বা সুবিধা আদায় করলে এবং সামগ্রিক ক্ষেত্রে সমজাতীয় পণ্যের কম পরিমাণের বিনিময়ে বেশি পরিমাণ নেয়া হলে অর্থ বা পণ্যের ঐ অতিরিক্ত অংশকে রিবা বা সুদ বলা হয়।

‘মানুষের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক আল্লাহর দৃষ্টিতে তা সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাক তা বৃদ্ধি করে। প্রকৃতপক্ষে জাকাত প্রদানকারীরাই সমৃদ্ধি আনে।’ -সূরা রূম: ৩৯

বস্তুত: ইয়াহুদীদের জন্যে আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্যে হালাল ছিল, তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহ্র পথে অধিক পরিমানে বাধা দেয়ার দরুন। আর এ কারণে যে তারা সুদ গ্রহণ করত। অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করত অন্যায়ভাবে। বস্তুত: আমি কাফিরদের জন্য তৈরি করে রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আন-নিসা: ১৬০-১৬১)

যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে (কিয়ামতের দিন), যাকে (জ্বীন) শয়তান স্পর্শ করেই পাগল করে দেয়। এটা এই জন্যেই যে তারা বলে বেচা-কেনা তো সুদেরই মতো (সূরা-বাকারা, আয়াত-২৭৫)

অতঃপর তোমরা যদি তা (বকেয়া সুদ) না ছাড়, তবে জেনে রাখ এটা আল্লাহ তায়া’লা ও তার রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধ। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। এতে তোমরা অত্যাচার করবে না, অত্যাচারিতও হবে না। (সূরা-বাকারা, আয়াত-২৭৯)

পবিত্র হাদিস শরিফে সুদের ভয়াবহ শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতিক্রম করেছি যাদের পেট ঘরের মত (বড়)। ভিতরে অনেক সাপ। যা পেটের বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি বললাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? তিনি উত্তর দিলেন, এরা আপনার উম্মতের সুদখোর লোক। -ইবনে মাজাহ: ২২৭৩

অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমরা (আমি, জিবরাইল ও মিকাইল) চলতে চলতে একটি রক্ত নদীর পাড়ে পৌঁছলাম। নদীর মাঝে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তীরে দাঁড়িয়ে আছে আর এক জন। তার কাছে কিছু পাথর আছে। নদীর ভিতরের লোকটি তীরে এসে যখনই পাড়ে উঠার চেষ্টা করে তখনই তীরের লোকটি তার মুখ বরাবর পাথর ছোঁড়ে তাকে আগের জাগায় ফিরিয়ে দেয়। যত বার উঠার জন্য অগ্রসর হচ্ছে তত বারই মুখের ওপর পাথর ছোঁড়ে পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে দিচ্ছে। আমি বললাম, এ কে? তারা (জিবরাইল ও মিকাইল) উত্তর দিল, নদীর ভেতরের লোকটি একজন সুদখোর। সহিহ বোখারি: ২০৮৫

ইসলামে যে জিনিসগুলো হারাম তার মধ্যে সুদ নিকৃষ্টতম। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম এর ভাষায় সুদগ্রহীতা, দাতা, এর লেখক ও সাক্ষীগণ সবাই অভিশপ্ত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮)

সুদের ভয়াবহতা বর্ণনা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সুদের গুনার সত্তরটি স্তর রয়েছে, তার মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে আপন মাকে বিয়ে (মায়ের সঙ্গে জিনা) করা। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২২৭৪)।

হযরত আবদুর রহমান ইবনে মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, যখন কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার ও সুদ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ পাক সেই জাতিকে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। ( আবু ইয়ালা ও হাকেম)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুদ ও সকল প্রকাল পাপাচার থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

কমেন্টস