যেখানে রয়েছে সবচেয়ে বেশি সোনার মজুদ

প্রকাশঃ অক্টোবর ১১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সোনা মজুদের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের একটা অংশ সংরক্ষণ করে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার পরিমাণ বাড়লে সোনার দামও বাড়ে।

এদিকে মজুদের জন্য বাজার থেকে সোনা কিনে থাকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোও। সোনা মজুদের দিক দিয়ে বিশ্বের সবার উপরে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক।

সোনা মজুদের দিক দিয়ে বিশ্বের সবার উপরে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। সোনা মজুদের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। তাদের সোনার পরিমাণ ৩ হাজার ৩৮৪ টন। তবে জার্মানি তাদের এক তৃতীয়াংশ সোনা নিজ দেশে রাখে। ৪৫ শতাংশ রাখে যুক্তরাষ্ট্রে, ১৩ শতাংশ লন্ডনে এবং বাকি ১১ শতাংশ রাখে ফ্রান্সে। বেশি সোনার মজুদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএফএম)। তাদের কাছে মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৮১৪ টন সোনা। ২ হাজার ৪৫১ টন সোনা নিয়ে চতুর্থ স্থানে ইতালি। আর দুই হাজার ৪৩৫ টন সোনা নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স।

বিশ্বের সবার উপরে থাকা নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভল্টে রয়েছে সাত হাজার টন সোনা। যা কিনা পৃথিবীতে উত্তোলিত মোট সোনার পাঁচ শতাংশ। এ কারণেই এই ভল্টটির ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার দিকটি দারুণভাবে সুরক্ষিত। তবে এই সোনার মালিক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নয়। তারা শুধু ভল্টে এই সোনা রাখার দায়িত্ব পালন করে।

নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে সার্বভৌম অনেক রাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের অনেক কোটিপতিরাও রয়েছেন। ৩৬টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা জমা রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভল্টে। এছাড়া আইএমএফের মতো সংস্থাও সোনা জমা রেখেছে এই ভল্টে। কিন্তু সম্পদের ওপর ভিত্তি করে সোনা জমাকারীদের বিষয়ে অভিন্ন নীতি মেনে চলে প্রতিষ্ঠানটি। জমাকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যও ব্যাংকে রক্ষিত সোনার বারের মতোই সুরক্ষিত থাকে। সব থেকে মজার তথ্য হলো, এতো কড়াকড়ি নিরাপত্তা সত্ত্বেও ভল্টটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।

রাস্তা থেকে আশি ফুট নিচে সুরক্ষিত ভবনের মধ্যে অবস্থিত নলাকার ভল্টটি। ভল্টটির মধ্যে ১২২টি পৃথক মিনি ভল্ট রয়েছে। এই মিনি ভল্টগুলো আলাদা আলাদা দেশের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া ভল্টের মধ্যে রয়েছে একটি ‘লাইব্রেরি ভল্ট’। ভল্টগুলোতে সোনা জমা রাখা হিসাবধারীদের তথ্য জমা থাকে এখানে।

এখানে সোনার বার জমা রাখার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন বেশ শক্তভাবে মেনে চলে রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেকটি সোনার বারকে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়। প্রত্যেকটি সোনার বারকে নির্দিষ্ট একটি বার কোড অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয় যাতে একজনের জমা রাখা সোনার বারের সাথে অন্যের সোনার বার মিলে না যায়। কেউ সেখানে যে সোনার বার জমা রাখলে নেওয়ার সময়ও তাকে ঠিক সেটিই দেওয়া হয়।

Advertisement

কমেন্টস