যমজ সন্তান হওয়ার কারণ কী?

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

অনেক গর্ভবতী প্রসবের সময় একসঙ্গে দুই অথবা তার অধির সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন ৷ গর্ভে একের অধিক সন্তান ধারণ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়৷ কিন্তু কী কী কারণে যমজ সন্তান হয়? বিশ্লেষণ করলেন কলকাতা আর কর মেডিক্যাল কলেজের স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ ড: অরূপ মাজি৷

যমজ দুই ধরনের হতে পারে

১) Fraternal

২) Identical.

Fraternal- যমজ দুইটি ভিন্ন ডিম থেকে বিকাশ লাভ করে। বেশিরভাগ যমজই fraternal । আর অসময়ে আকস্মিক ও প্রারম্ভে গর্ভধারণের কারণে অনেক সময় একই ডিম বিভক্ত হয়ে Identical যমজ সৃষ্টি করে।

কী কী কারণ?

১. পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে যমজ সন্তান প্রসবের হার বেড়েছে ৷ চিকিৎসকরা মনে করছেন মাল্টিপ্‌ল অবুলেশন (Multiple Obulation) এর প্রধান কারণ অর্থাৎ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য যে ওষুধ সেবন করা হয়, সেই ওষুধের সাইড এফেক্ট থেকে যমজ সন্তানের জন্ম হয়৷

২. টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে একাধিক ভ্রুণ মায়ের গর্ভে ট্রান্সফার করা হয়, এক্ষেত্রেও যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷

৩. বেশি বয়সে প্রেগনেন্সি একটা বড় কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকমহল৷

৪. বংশগত কারণ

কী কী সমস্যা হতে পারে?

১. মা এবং বাচ্চা, দু’জনের শরীরেই বেশ কিছু জটিলতা দেখা যায়৷

২. মূলত মায়ের শরীরে রক্তাল্পতা দেখা যায় ৷ প্রেসার বেড়ে যায়, রক্তক্ষরণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেয়৷

৩. ডেলিভারির পর রক্তস্রাব বেশি হয়৷ Infection এর ভয় থাকে৷

৪. ডেলিভারির সময় সমস্যা হতে পারে৷

৫. প্রি-টার্ম ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেক সময় মায়ের মৄত্যু পর্যন্ত হতে পারে৷

বাচ্চার সমস্যা

১. অপরিনত বাচ্চা

২. বাচ্চার ওজন কম হয়

৩. নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি

৪. জন্মের সময় মৄত্যুও হতে পারে৷

চিকিৎসা

১. মাকে বেশি পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে৷

২. পুষ্টিকর খাবার বেশি খেতে হবে৷

৩. ডেলিভারির আগে অর্থাৎ প্রেগনেন্সির সময় অ্যানিমিয়া ধরা পড়লে অথবা রক্তক্ষরণ বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে ঘনঘন চেক-আপ করাতে হবে৷

৪. অ্যানিমিয়া ঠেকাতে আয়রন ফলিক অ্যাসিডের পরিমান বাড়াতে হবে৷

৫. ডেলিভারির নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে উপযুক্ত পরিকাঠামো আছে এমন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে৷

কমেন্টস