সৎমেয়েকে ধর্ষণের পর বিয়েঃ আল্লাহর আইন যা বলছে

প্রকাশঃ জুলাই ১৪, ২০১৭

সংগৃহীত

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আট বছর ধরে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোরের শব্দ প্রকৌশলী আরমান হোসেন সুমন। তবে এই নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই, উল্টো  সৎ মেয়েকে আরমান বিয়ের দাবিও করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি)অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সাইবার ক্রাইম) নাজমুল ইসলাম।

জিজ্ঞাসবাদে সৎ মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে আরমানের স্বীকারোক্তি শুনে বিস্মিত হয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এজন্য আরমানের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনাও দেখা যায়নি বলে সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন। উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, আরমান তার সৎ মেয়েকে বিয়ে করারও দাবি করেছে। কিন্তু তাকে কোরআন শরীফের সূরা আন-নিসায় এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কথা বলা হলে সে চুপ করে ছিল। আমরা তার বিয়ের বিষয়টিও যাচাই করে দেখছি।

একজন মুসলিম হয়ে নিজের সৎ মেয়েকে কীভাবে বিয়ে করার কথা বলেন বড় অবাক বিষয়। অথচ কুরআনে সৎ মেয়েকে বিয়ে করা সরাসরি হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‌‌তোমাদের জন্য (বিবাহ করা) নিষিদ্ধ করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনীকন্যা, দুঙ্মাতা, দুগ্ধভগ্নি, শাশুড়ি ও তোমাদের সংগত হওয়া স্ত্রীদের পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে রয়েছে। তবে যদি তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাকো, তাহলে এ বিবাহে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। আরো তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তোমাদের নিজ পুত্রবধূ ও দুই ভগ্নিকে একত্রে (বিবাহ) করা। (ইসলাম আসার) আগে যা হয়ে গেছে, তা তো অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা : আন নিসা, আয়াত : ২৩)

তাফসির : আলোচ্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতে যাদের সঙ্গে বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ, এমন নারীদের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। শ্রেষ্ঠতম কোরআন ব্যাখ্যাতা হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেছেন, স্ববংশজাত হওয়ার কারণে সাতজন মহিলাকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে। আর সাতজনকে হারাম করা হয়েছে বৈবাহিক (বা অন্য) সূত্রে। সুতরাং এখানে সর্বমোট ১৪ জন নারীর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বা অবৈধ। তারা হলো : মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনীকন্যা, দুঙ্মাতা, দুগ্ধভগ্নি, শাশুড়ি, স্ত্রীর পূর্ব স্বামী কর্তৃক গর্ভজাত কন্যা, পুত্রবধূ, দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহ করা, অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম।

বংশগত সম্পর্কের কারণে যাদের বিবাহ করা হারাম : প্রথমত, আপন জননীদের বিয়ে করা হারাম। এখানে ‘জননীদের’ শব্দের ব্যাপকতায় দাদি, নানি সবার ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত, স্বীয় ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করা হারাম। অনুরূপভাবে পৌত্রী, প্রপৌত্রী, দৌহিত্রী, প্রদৌহিত্রী তাদের সবাইকে বিয়ে করা হারাম। তৃতীয়ত, সহোদরা ভগ্নিকে বিয়ে করা হারাম। এমনইভাবে বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী ভগ্নিকেও বিয়ে করা হারাম।

চতুর্থত, পিতার সহোদরা, বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী বোনকে (ফুফুকে) বিয়ে করা হারাম।

পঞ্চমত, আপন জননীর সহোদরা, বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী বোনকে (খালা) বিবাহ করা হারাম।

ষষ্ঠত, ভ্রাতুষ্পুত্রীর সঙ্গেও বিয়ে হারাম, আপন হোক, বৈমাত্রীয় হোক।

সপ্তমত, বোনের কন্যা, অর্থাৎ ভাগ্নিকে বিয়ে করা হারাম। চাই সে বোন সহোদরা, বৈমাত্রেয়ী ও বৈপিত্রেয়ী যেকোনো ধরনের বোনই হোক না কেন, তাদের কন্যাদের বিবাহ করা ভাইয়ের জন্য বৈধ নয়।

স্তন্যপানজনিত কারণে যাদের বিবাহ করা যাবে না : পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যে দুঙ্মাতা ও দুগ্ধবোনকে বিবাহ করা হারাম। এর বিশদ বিবরণ এই যে দুধপানের নির্দিষ্ট সময়কালে (দুই বছর) কোনো বালক কিংবা বালিকা কোনো স্ত্রীলোকের দুধ পান করলে সে তাদের মা এবং তার স্বামী তাদের পিতা হয়ে যায়। এ ছাড়া সে স্ত্রীলোকের আপন পুত্র-কন্যা তাদের ভাইবোন হয়ে যায়। অনুরূপ সে স্ত্রীলোকের বোন তাদের খালা হয়ে যায় এবং সে স্ত্রীলোকের ভাশুর ও দেবররা তাদের কাকা হয়ে যায়। তার স্বামীর বোনরা শিশুদের ফুফু হয়ে যায়। তাদের সবার সঙ্গে বৈবাহিক অবৈধতা স্থাপিত হয়। বংশগত সম্পর্কের কারণে পরস্পর যেসব বিবাহ হারাম হয়, দুধপানের সম্পর্কের কারণেও সেসব সম্পর্কীয়দের সঙ্গে বিবাহ অবৈধ হয়ে যায়।

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যাদের বিবাহ করা অবৈধ : প্রথমত, স্ত্রীদের মাতারা (শাশুড়ি) স্বামীর জন্য হারাম। শব্দের ব্যাপকতায় স্ত্রীদের নানি, দাদি সবার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য।

দ্বিতীয়ত, নিজ স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহের পর সহবাস করার শর্তে ওই স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিবাহ করা হারাম।

তৃতীয়ত, পুত্রবধূকে বিয়ে করা হারাম। পুত্র শব্দের ব্যাপকতার কারণে পৌত্র ও দৌহিত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা যাবে না।

চতুর্থত, দুই বোনকে বিবাহের মাধ্যমে একত্র করা অবৈধ, সহোদর বোন হোক কিংবা বৈমাত্রেয়ী বা বৈপিত্রেয়ী হোক, বংশের দিক থেকে হোক বা দুধের দিক থেকে হোক- এ বিধান সবার জন্য প্রযোজ্য। তবে এক বোনের চূড়ান্ত তালাক ও ইদ্দত পালনের পর কিংবা মৃত্যু হলে অন্য বোনকে বিবাহ করা জায়েজ। সংগৃহীত

Advertisement

কমেন্টস