যে কারণে আল্লাহর নেক বান্দাদের জন্য দোয়া করে পশু-পাখি ও জীব-জন্তুরা

প্রকাশঃ মে ১১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

প্রতিটি দেশের একটি সীমানা থাকে, সীমান্ত প্রহরী থাকে। ইসলামেরও একটি সীমানা আছে। কর্মগত, চিন্তাগত সকল বিধি-বিধানের আছে সুস্পষ্ট চৌহদ্দি, সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো। এর ভিতরে যা পড়ে তা ইসলাম, যা পড়ে না তা অনিসলাম।

তো ইসলামী বিধি-বিধানের এই সীমান্ত যারা প্রহরা দেন, যারা ইসলামকে স্বরূপে উপস্থাপন করেন, তারা হলেন আহলে ইলমের জামাত, উলামায়ে কেরামের জামাত। আর সঠিকভাবে আল্লাহতায়ালার নাম নেওয়ার জন্য দ্বীনি ইলম (জ্ঞান) অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে মানুষ মহান রবের প্রকৃত পরিচয় লাভ করেন। যে মানুষটি ইলম দ্বীন শিখেন তাকে বলা হয়- ‘তালিবুল ইলম।’

প্রিয় নবী হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর ভিত্তিতে বলা যায়, মাটির গর্তে বসবাস করা ছোট্ট পিঁপড়া থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্রে বিচরণ করা অসংখ্য মৎসরাজি তালিবুল ইলমের জন্য দোয়া করে।

এখন প্রশ্ন হলো- কেন তাদের জন্য এই দোয়া? একজন তালিবুল ইলমের জন্য কেন এই দরদ, এমন ভালোবাসা?

এর উত্তরে ইসলামি স্কলাররা বলেন, এরা হয়তো জানে- জলবায়ূ স্বাভাবিক থাকলে তাদের জীবন নিরাপদ। অন্যদিকে আল্লাহতায়ালার নাম দুনিয়ার বুকে যতদিন থাকবে ততদিন প্রলয় আসবে না। সে জন্য চাই রাব্বুল আলামীনের পরিচয় ভালোভাবে লাভ করা। আর তা হয় ইলমে দ্বীন অর্জন করার মাধ্যমে। আর সেই কাজটি করে থাকেন তালিবুল ইলমরা। তাই বলা যায়, ইলমে দ্বীন হলো- পৃথিবীর স্থায়ীত্বের অন্যতম কারণ।

হাদিসের জ্ঞান সাধনায় অগণিত মনীষী নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইলম অর্জনের জন্য যারা অক্লান্ত মেহনত করেছেন নবীর (সা.) ভাষায় তারা পেয়েছেন পৃথিবীতে বিচরণশীল অসংখ্য প্রজাতির পশু-পাখীর দোয়া। নিজের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ। নিজের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ফরজ আমল করে এমন প্রভূত কল্যাণের অধিকারী হতে পারা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। যেকোনো বয়সের মানুষ কোনো শর্ত ছাড়াই এই কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। শুধু দরকার একটু আগ্রহ এবং চেষ্টা। আসুন, আমরাও প্রভূত কল্যাণ লাভে ধন্য হই।

অহি দ্বীনি ইলমের ঐশী সূত্র। অহির একটি অংশ হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসেছে। এই অংশকে আমরা ‘অহি মাতলু’ বলে জানি। মাতলু অর্থ পঠিত। যেহেতু এই অহি নামাজে পাঠ করা হয় তাই এই অহিকে মাতলু আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অহির অপর একটি বড় অংশকে আল্লাহতায়ালা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্তরে কোনো মাধ্যম ছাড়াই উন্মেষ ঘটিয়েছেন। এটিকে আমরা বলি- ‘অহি গায়রে মাতলু।’ ‘গায়ের’ শব্দটি আরবি ভাষায় না বোধক মর্ম বহন করে। সে হিসেবে গায়রে মাতলু অর্থ অপঠিত। এই অহি নামাজের ভেতরে পাঠ করা হয় না। তাই এর নাম গায়রে মাতলু। প্রথম প্রকার অহি হলো- পবিত্র কোরআন। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো- হাদিস শরীফ।

হাদিস বুঝার জন্য পবিত্র কোরআনের স্মরণাপন্ন হওয়া যতটুকু দরকার, পবিত্র কোরআনের প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করার জন্য হাদিসের দারস্থ হওয়া তার চেয়েও বহুগুণে বেশি প্রয়োজন। দ্বীন (ইসলাম) বোঝার জন্য তাই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের জ্ঞান লাভ করার বিকল্প নেই। শত-সহস্র গবেষণাকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে হাদিস শাস্ত্রকে ঘিরে।

Advertisement

কমেন্টস