গণমাধ্যম ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ভাবনা

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৫, ২০১৬

আসাদুল্লা লায়ন-

মানবসমাজ সৃষ্টিশীল সমাজ, মানব সভ্যতার তখন থেকে আজ পর্যন্ত তার পরিবর্তনের চাকা যেন আপন গতিতে ছুটে চলেছে। আজ অত্যাধুনিক কম্পিউটারের যুগ, সময়ের প্রেক্ষাপটে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও গণমাধ্যম অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।

রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকাসহ এ রকম গণমাধ্যমকে যারা পেশা হিসেবে ধারণ করার স্বপ্ন বুনে তাদের জন্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয় খোলা হয় ১৯৬২ সালে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে সময়ের ব্যবধানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে আগ্রহ বাড়ার কারণে বেসরকারিভাবে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু হয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো।

সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা, অনেক তরুণই স্বপ্ন দেখে খ্যাতিমান সাংবাদিক হওয়ার। বিশেষ করে বর্তমানে মেয়েদের এ পেশায় অংশগ্রহণ লক্ষণীয়। তবে তাদের শত বাঁধা আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে আদৌ সাংবাদিকতা করা হবে কি? সাংবাদিকতায় পড়ুয়া ছাত্রীদের এ রকম সমস্যা সম্ভবনার গল্প নিয়ে বিডিমর্নিংয়ের মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কিছু মেধাবী ছাত্রীরা। প্রতিবন্ধকতা যখন নিজের পরিবার, নিজের আপনজন, নারী হয়ে এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ পেশার দিকে অগ্রসর হতে অসম্মতি জানিয়েছে, সাংবাদিকতায় পড়তে বারণ রয়েছে, তখন নিজের অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় নাম লিখিয়েছেন গাজীপুরের সাবরিনা আলম রিয়া।

সাংবাদিকতায় পড়াশোনার মাধ্যমে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসে নিজেকে আলোকিত করতে চায়। সাবরিনা আলম রিয়া ভবিষ্যৎ ভাবনায় সাংবাদিকতায় কাজ করার ক্ষেত্রে নানা বাঁধা তাকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। বাংলাদেশে নারীদের সাংবাদিকতা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ সেজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে মনে করেন রিয়া। গণমাধ্যম ছাত্রী সোনিয়া আক্তার এর ক্রাইম রির্পোটিংয়ের মত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক সাংবাদিকতা করার ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে মূলত তার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পড়াশোনা। কিন্ত বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় নারীকে সাংবাদিকতায় যেভাবে দেখা হয়, তাতে সনিয়ার সাংবাদিকতার ভাবনা বিনষ্ট, ভবিষাৎ ভাবনা মোড় নিল অন্যদিকে, সনিয়া সিদ্ধান্ত নিল ক্যামেরা সেক্টরে কাজ করার, যদিও তার সাংবাদিকতায় ছিলো অধীর আগ্রহ।

নরসিংদী থেকে এইচএসসি শেষ করে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টামফোর্ড ইউনিভাসিটির গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পড়ুয়া সোনিয়া সমাজের এ অবস্থার জন্য সমাজকে দায়ী করলেন না, দায়ী করলেন না রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেও বা এরুপ অন্য কাউকে, কিন্ত কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সনিয়া বললেন, আগে আমাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাদের পরিবারকে পরিবর্তন করতে হবে এবং আমাদের আশপাশে মানুষেদেরকে পরিবর্তন করতে হবে তবেই নারীরা সাংবাদিকতায় তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা, আমি মেয়ে হয়ে আদৌ সাংবাদিকতা করা হবে কি? মনে একটু শঙ্কা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের রাজাবাড়ি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তানযিনা আক্তার প্রাপ্তি,আগে থেকেই সাংবাদিকতার প্রতি ছিল অন্যরকম ভাল লাগা, ছিলো পড়াশোনার ইচ্ছা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ১ম বষের ছাত্রী প্রাপ্তি পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে সাংবাদিকতা করার ইচ্ছা। কিন্ত মেয়ে হয়ে অাদৌ কি পারবে? সমাজে মেয়েদের সাংবাদিকতায় যেভাবে দেখা হয় তাতে সাংবাদিকতায় শুধু কষ্টসাধ্য নয় ঝুঁকিও বটে। প্রাপ্তি শুধু সমাজকে দোষারোপ করেননি দোষারোপ করেছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও।

ছোটবেলায় টেলিভিশনে নারীদের খবর পড়া দেখে নিজেকে ঠিক সেই জায়গায় কল্পনা করতেন রোকেয়া জাহান স্বর্ণ।রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেট ইউনিভাসির্টি অফ বাংলাদেশ’র সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী স্বর্ণ জানে সাংবাদিকতা পেশা মানেই আত্মত্যাগ ও জীবনের ঝুুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন। সাংবাদিকতা সত্যিকারের একটা চ্যালেঞ্জ বিশেষ করে নারীদের জন্য এটা আরও বেশি, বর্তমানে সাংবাদিকতায় ছেলে মেয়ের বিভেদটাকে যেভাবে দেখা হয় তাতে হবে কি ওর স্বপ্ন পূরণ? স্বর্ণের মতো এরকম অসংখ্য গণমাধ্যম ছাত্রীর ভবিষ্যৎ ভাবনায় যেন বিনষ্ট। তবুও হার মানতে নারাজ আত্নপ্রত্যয়ী স্বর্ণ ভবিষ্যৎ ভাবনায় নিজেকে উপস্থাপক ও বিনোদন সাংবাদিকতায় দেখতে চায়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় নারীর সমাধিকার চায় গণমাধ্যম ছাত্রী রোকেয়া জাহান স্বর্ণ।

Advertisement

কমেন্টস