আমি আর কাউকে হারাতে পারবো না

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

সাদিয়া হোসেন লোপা, এনএসইউ প্রতিনিধি-

রুপাকে আমার কাছে মাঝে মাঝেই লাবনীর মত লাগে। ঠিক সেই পাগলামি, সেইরকম হাসি, সেইরকম বাচ্চামানুষী। অবাক লাগে একটা মানুষের মত আরেকটা মানুষ কিভাবে হয়!

আমার সাথে যখন লাবনীর প্রেম ছিল, তখন লাবনী প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতো, আচ্ছা, আমি যদি চলে যাই তাহলে অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে তুমি? অন্য মেয়েকে ভালবাসবে? আমি তখন ওর দিকে তাকিয়ে বলতাম, ধুর পাগলী। তুমি যদি কখনও চলেও যেতে চাও, তোমাকে আমি যেতে দিবো না। অন্য মেয়েকে বিয়ে করবো কেন?

তোমার মত আরেকপিস কি আছে নাকি? লাবনী তাকিয়ে একটা হাসি দিতো, হয়তো বা এর অর্থ ছিল, জানি জানি, তুমি আরেকটা বিয়ে করবে। এসব যখন ভাবছি, ঠিক তখনি রুপা ভাউ ভাউ করে কান্না করে আমার সামনে এসে বলছে, স্নিগ্ধ, দেখো আমার হাত কেটে গেছে। আমি তাকিয়ে রক্ত খুঁজার চেষ্টা করলাম, আর ভাবছি বেচারা এত কান্না করছে না জানি কত ব্যথাই না পেয়েছে।

পরে জিজ্ঞাস করলাম, রুপা কোথায় কেটেছে? রুপা মুখটা বাংলার পাঁচের মত করে বললো, হাত কাটার জন্য কি রক্ত পড়তে হবে? আমার মনে হলো হাত কেটেছে তাই কানলাম।রুপা মাঝে মাঝে এমন অদ্ভুত কাণ্ড করে। কিন্তু আমি কখনই সেইসব কাণ্ডকে হেলায় ফেলি না। ওর কাণ্ডগুলোতে যদি ও হাসে, তাহলে আমিও হাসি। আর যদি কাদে আমিও মন খারাপ করি। রুপাকে আমি ঠিক আমার মত করে ভালোবাসি, একদম একটা ছোট বাচ্চাকে যেভাবে ভালোবাসা যায় ঠিক তেমন। এই ভালোবাসাটা আমি লাবনীকেও বাসতাম। রুপার যদি কোন কারণে মন খারাপ হয়, তবে ও ঠিক লাবনীর মতই আমাকে ৫০০ বার সরি বলতে বলবে, আর হাজার বার ফোনে কল দিয়ে বলবে, আমি কষ্ট পেয়েছি।

একদিন মাঝরাতে রুপা আমাকে ঘুম থেকে তুলে বলছে, আমাকে ভালোবাসো? আমি বললাম, হুম অনেক। আমি যদি কখনো তোমায় ছেড়ে চলে যাই, তখন আরেকটা বিয়ে করবে? আমি তখন রুপাকে জড়িয়ে ধরে মুখ ফসকে বলেই ফেললাম, লাবনী প্লিজ, আর কখনো এই কথা বলো না। আমি তোমাকে আর হারাতে পারবো না।

রুপা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, স্নিগ্ধ, তুমি আমার থেকেও লাবনীকে বেশি ভালোবাসো। আমি না সত্যিই লাবনীর মত তোমাকে ছেড়ে যাবো না। এই রাতেই বুঝেছিলাম রুপাটা আসলেই আমার লাবনীর থেকেও বেশি ভালো।

স্কুল কলেজের বন্ধুরা, রুপা আর আমাকে কোথাও দেখলেই বাসায় এসে কল দিয়ে বলে, কিরে লাবনীকে তাহলে পেলি না? বলেছিলাম না, মেয়েরা এসব প্রেম টেম বুঝে না।আমি যখন ওদেরকে আসল কথাটা বলি তখন ওদের মত দুঃখী মানুষ আর একটা থাকে না।

লাবনী আমার জন্যই আমাকে ছেড়ে গেছে। লাবনী আর আমি ছিলাম ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জুটি।সব সময় একসাথে থাকতাম। এরকিছুদিন পর টিউশনি আর জব নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে, লাবনীর সাথে সব মিলিয়ে এক ঘণ্টাও কথা হতো না। লাবনী ফোন দিয়ে শুধু অভিযোগই করতো। আর ওই যে অভিমান করলে হাজার বার ফোন দিতো। তাই কাজের সময়টায় ওর নাম্বার ব্লক করে রাখতাম। এটা লাবনীও জানতো। একদিন সন্ধ্যায় বাসায় যেয়ে ব্লকলিস্ট চেক করতে দেখি যে, লাবনী আমাকে ৩৯ বার কল দিয়েছে। আমি তো অবাক! সাথে সাথে ওকে কল দিলাম ওপাস থেকে লাবনীর বোন বললো, আপু এক্সিডেন্ট করেছিল সকালে। তোমাকে সবার নাম্বার থেকে কল দেওয়া হয়েছিল, তুমি ধরনি। আপুর যখন একটু সেন্স আসছিল, তখন শুধু বলে গেছে, তোমাকে দেখানোর পর যেন আপুর লাশ দাফন করা হয়। সেইদিনই ছিল আমার লাবনীর আমাকে ছেড়ে যাওয়ার দিন।
আমি এখন হাজার ব্যস্ত থাকলেও রুপার ফোন ধরি, ওর পাগলামী শুনি। আমি যে আর  কাউকে হারাতে পারবো না।

কমেন্টস