ভূতুড়ে নদী

প্রকাশঃ জুলাই ২২, ২০১৭

মোঃ ইমরুল কায়েস, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী।

বাঘরোম একটি গ্রামের নাম। সবুজ শ্যামলে ঘেরা এই ছিল গ্রামটি। গ্রামটি পাদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। গ্রামটিতে মানুষ অনেক সুখে শান্তিতে বসবাস করত। গ্রামটিতে ধানক্ষেত, আমের বাগান, শস্য ক্ষেত, গোয়াল ভরা গরু সবই ছিল। গ্রামটিতে একটি হাই স্কুল ছিল। সেই স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক দল দুরন্ত কিশোর কিশোরী ছিল। স্কুলটির পাশে একটি বড় বটগাছ ছিল। হিজাজ, নাঈম, মুন্নী, তিশা, জুয়েল, তুষার, মৌ, পলাশ, সুমি এবং আফিফ একসাথে স্কুল শেষে খেলা করতো। একদিন সবাই মিলে বিকেল ৪ টায় ঠিক করে যে, তারা আজ নদীর পাড়ে ঘুরতে যাবে। তাদের বারি থেকে নদীর পাড় খুব বেশী দূরে ছিল না। তারা পাদ্মা নদীর পাড়ে গিয়ে ঠিক করে যে, গভীর রাতে তারা নদীতে মাছ ধরবে।

হিজাজ, নাঈম, জুয়েল, তুষার, পলাশ এবং আফিফ রাত ১ টায় মাছ ধরতে যায়। তারা সবাই মাছ ধরা নিয়ে মগ্ন ছিল হঠাৎ নাঈম, জুয়েল, তুষার এবং আফিফ দেখতে পায় দুজন সাদা কাপড়ে পানির উপর ভাসছে এবং তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। নাঈম, জুয়েল, তুষার এবং আফিফ নদী থেকে উঠে এক দৌড়ে বাড়ি চলে যায় আর হিজাজ এবং পলাশ মাছ ধরা নিয়ে এত মগ্ন ছিল যে তারা ঘটনাটি দেখতে পায় না। পরের দিন নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। তারপর থেকেই এই নদীতে একের পর এক মানুষের লাশ ভেসে ওঠে। সেই থেকে এই নদীর নাম ভূতুড়ে নদী হয়ে যায়। মানুষ আর এই নদীর আশেপাশে আসত না।

পাদ্মা নদীর  বুকে ভুবনপুর নামে একটি চর ছিল। সেখানকার মানুষ কেমন ছিল তা কেউ জানত না। সেখানকার মানুষ কৃষি কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করত। হঠাং এক রাতে নদীর পানি বেড়ে যায় এবং সেখানকার সকল মানুষ মারা যায়। বাঘরোমের প্রতিটি মানুষ পরদিন সকালে এই সংবাদ পায়। কেউ জানত না এই নদীর পানি বাড়ার কারন! সবাই বলে যে, এই ভূতুড়ে নদীতে খারাপ জ্বীন বসবাস করে। ধীরে ধীরে নদীর পাড়ের মানুষ এখান থেকে চলে যায়। শুধু পড়ে থাকে এই সর্বনাশা ভূতুড়ে নদী।

Advertisement

কমেন্টস