কাশ্মীর ও গোলনাহার

প্রকাশঃ নভেম্বর ১৭, ২০১৬

আসিফুজ্জামান খন্দকার-
কাশ্মীরে যাওয়ার বাসনা আমার বহুদিনের।শুনেছি সেখানকার মেয়েরা নাকি অনেক সুন্দরী আর পরহেজগার হয়।বিশেষত আরবীয় পোশাকে মেয়েদের দেখতে বেশ ভালোই লাগে। ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরে যাওয়ার স্বাদ দেরীতে হলেও পূর্ণ করলাম। যাক সে কথা।

যে দিন সেখানে গেলাম আমি অভিভূতই হলাম আপেল আঙুরের বাগান দেখে। আহ্ কি অপূর্ব! আমি হাঁটতে হাঁটতে জনৈক এক বাগানীর আঙুর বাগানে ঢুকে পড়লাম। হাঁটছি আর কবিতা পড়ছি এমন সময় বাগানের মালিক সামনে পড়লো। অচেনা আগন্তুক দেখে তিনি আমার কাছে আসলেন।জিজ্ঞাস করলেন, ওহে আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না। আমি বললাম আপনি আমায় চিনবেন না, আমি মোসাফির, বাংলাদেশ থেকে এসেছি, দিন পাঁচেক থাকবো, দেশটা দেখা হলে আবার বাড়ি ফিরে যাবো। তিনি বললেন- কোথায় ওঠেছেন? এখনো ওঠিনি। কোন হোটেল পেলে উঠে যাবো। আপনি পরদেশি মেহমান, হোটেলে উঠবেন কেন, চলুন আমার অতিথিশালায়। ওখানে আপনার কোন কষ্ট হবে না।আমার বিশাল বাড়ি থাকবার মানুষ নেই, বাড়িতে আমার বিবি আর একমাত্র কন্যা গোলনাহার থাকে। আপনার সমস্যা হবে না। প্রথমে যেতে চাইনি, অনেক জোরাজোরির পর আর না বলতে পারলাম না।বাগানীর বাড়িটা ছিল আঙুর বাগানের দক্ষিণে। খুব অল্প সময়েই আমারা চলে এলাম। বাড়িতে এসে অাতিথিয়তায় মুগ্ধ হলাম। বাহারি খাবারের সমাহার আপ্যায়ন করাতে এলো রূপসী গোলনাহার, সে কি ভোজন এ জন্মে ভুলবো না।

খাবার শেষে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি একমনে কবিতা পড়ছি অমনি ষোড়সী গোলনাহারের আগমন। ডাগঢ় দুটি চোখ, পাঁপড়ি ঠোঁটে একরাশ হাসি মেখে আমায় সুধালো, ওহে পরদেশি কি নাম আপনার? আমি উত্তর দিলাম। তারপর আবার মিষ্টি হেসে বললো তো কি করেন? সাগরের মতো গভীর দুচোখে তাকিয়ে বললাম ভবঘুরে, দেশে দেশে ঘুরি আর কবিতা লিখি। কবিতা লিখেন! আমি কবিতা খুব ভালোবাসি। আল্লামা ইকবালের কবিতা আমার খুব প্রিয়। প্লিজ আপনার একটা কবিতা শুনান না। আমি শুনালাম কবিতা কতক। কবিতা শুনে সে কি প্রশংসা আমি যা নই তাই বলে গেলো। এমনি ভাবে তিন দিন কাটালাম বাগানি বাড়িতে। এবার চলে আসার পালা। আমি তখন ব্যাগ গুছাচ্ছি হঠাৎ গোলনাহারের আগমন। আমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম, তুমি। হ্যাঁ আমি। চলে যাচ্ছেন বুঝি। হ্যাঁ চলে যাচ্ছি। আবার কবে আসবেন? তা জানি না, হয়তো আর কখনো আসা হবে না। অমনি দৌঁড়ে কাছে এসে হাত দুটি ধরে বলল, ওহে পরদেশি আমায় নেবে তোমার দেশে।

সে হয় না। কেন হয় না? কি পরিচয়ে তোমায় নেবো আমি, লোকে মন্দ বলবে। বলুক, আমি যাবো তোমার সাথে, বলেই কেঁদে ফেলল। আমি আর কিছু বলতে পারিনি শুধু অপলক নয়নে তাকিয়ে রইলাম তার পানে। আমার জন্যে এমন গভীর অনুরাগ এ জন্মে আমি দেখিনি কারো চোখে…।
হঠাৎ দরজায় ঠক্ ঠক্ আওয়াজ মায়ের কণ্ঠ আর কতো ঘুমাও তাড়াতাড়ি ওঠো আসিফ সেহেরির সময় চলে যাচ্ছে।

রচনাকাল: ১২-০৬-২০১৬
রাত:সম্ভাব্য সময় (১১:০০-৩:০০)

 

Advertisement

কমেন্টস