প্রত্যাবর্তন

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৪, ২০১৬

আবু খায়ের আনিছ।।

ইয়ারপোর্টে বন্ধুকে বিদায় জানাতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো তা নিম্নরূপ,
স্বাধীনতার পর দেশে আসার জন্য মনটা কাদঁত, বাবার মুখে অনেক গল্প শুনেছিলাম এই দেশের। কিন্তু কখনো আসা হয়ে উঠেনি। বাবার সেই গ্রাম, মাঠ-প্রান্তর, সেই মন্দির, স্কুল, বন্ধু। কত গল্প শুনেছি, সাহসের গল্প, জীবনের গল্প, যুদ্ধের গল্প, বীরত্বের গল্প। কখনো কখনো সেই গল্পের মাঝে কালো ছায়া হয়ে আর্বিভাব হতো কিছু কালো মানুষের।

মনের মাঝে তীব্র একটা ঘৃণা জন্ম নিত তখন। মনে হতো, যদি কখনো সুযোগ পাই সেই কালো মানুষগুলোর রক্ত দিয়ে হাতগুলো রাঙ্গিয়ে নিব। সুযোগ আমার হয়েছিল বটে, কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে আমি পারিনি, পারিনি আমার মাতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে; মুছে দিতে আমি পারিনি জাতির এক কলঙ্কিত বিন্ধুকে। ব্যর্থতা আমার নয়, আমি চেয়েছি মনে প্রাণে। ভয় আমার জন্য নয়, ভয় ওদের জন্য যারা আবার আমার মত দেশ ছাড়া, গৃহ ছাড়া হয়ে যাবে।

তোমার অাতিথেয়তায় আমায় মুগ্ধ করেছে, কিন্তু বন্ধু আমি ফিরে যাচ্ছি এক অতৃপ্ত আত্মা নিয়ে, যদি কখনো এই কলঙ্কের দাগ মুছে যায় আমার বাংলা মায়ের বুক থেকে তবেই আমি ফিরব মায়ের কোলে, আমার যে খুব লজ্জা হয়, আমি কেমন সন্তান যে মায়ের বুকের কালো দাগ মুছতে পারি না, কি করে এই মুখ আমি দেখাব আমার মাকে।
যাদব যখন বিমানে উঠতে যাবে তখন কোন কথা বলেনি, কিন্তু তার চোখে মুখে আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি বিদ্রোহের এক আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। একটা কথাও সে আমার সাথে বলেনি, শুধু এই কথাগুলো লেখা একটা কাগজ সাথে একটা ছোট্ট ডায়রী ধরিয়ে দিয়ে গেছে।

যাদব আমার বন্ধু, কলকাতায় যখন পড়াশোনা করতাম তখনকার বন্ধু, এক সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে, আমি এখন দেশে আর সে রয়ে গেছে তার দেশে। এক জাতির সন্তান হয়েও আমরা দুইজন আলাদা। বাংলাদেশেই ওর জন্ম কিন্তু সে বাংলাদেশি নয়, এই আফসোস বহুবার করেছে, আর যতবার সে বাংলাদেশের কথা বলেছে ততবার দেখেছি ওর চোখগুলো জল জল করে উঠছে, চোখে মুখে করুণ আকুতি, বহুদিন তৃষ্ণার্ত থাকার পর পানির সন্ধানে থাকা পথিক যেমন আকুতি করে পানির জন্য, তেমনি আকুতি দেখেছি তার চোখে দেশে ফিরার জন্য। হোস্টেলে থাকার সময় মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ঢেকে নিয়ে গিয়ে বলল, জানিস দোস্ত আমি আমার মায়ের সমাধী দেখতে পারিনি, আমি আমার পূর্ব পুরুষের ভিটেটা পর্যন্ত দেখতে পারিনি, আমার খুব ইচ্ছা হয় মায়ের সমাধীটা দেখতে, ইচ্ছে হয় মায়ের সেই মাটিকে গায়ে মাখতে।

যাদবকে ছেড়ে দেশে এসেছি সেই ৯৫ সালে। এখন ২০০০ সাল। দীর্ঘ পাঁচ বছর কোন যোগাযোগ ছিল না, হঠাৎ করেই একটি চিঠি পেলাম যাদব এর, চিঠি পাওয়ার দুইদিনের মধ্যেই সে নিজে এসে হাজির। বহুদিন পর বন্ধুর সাক্ষাৎ যতটা সুখ-কর হওয়ার কথা ছিল ততটা কিন্তু মোটেও হতে পারেনি, বরং নিজের দ্বায়ীত্ব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তাকে তার সেই পিতৃভূমিতে নিয়ে যাওয়ার সময়টুকু পাইনি। শেষ পর্যন্ত, নিজের অধিনস্ত এক লোককে দিয়েই পাঠাতে হয়েছিল। দেশের মাটিতে পা দিয়ে তার আর তর সইছিল না, তাই সোজা ইয়ারপোর্ট থেকেই গন্তব্যে পাঠাতে হয়েছিল। মাত্র তিনটা দিন থেকেই বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছে।

সরকারের দেওয়া গাড়ীতে করেই ইয়ারপোর্ট থেকে রওনা দিলাম থানার উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম বাসায় গিয়ে রাতে দেখব কি লিখেছে ডায়রিতে, কিন্তু মনটা কেন জানি উসখুস উসখুস করছিল, ডায়রির প্রথম পাতাটা খুলেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম,
“যদি কোনদিন ফিরি মা তোর বুকে
থাকতে দিব না কোন অজাত শত্রু
যারা একি দিয়েছিল ক্ষত তোর বুকে,
কাকে দিবি তোর কোলে স্থান? ঘৃণিত রাজাকার
নাকি তোর তৃষ্ণায় বড় হওয়া বঞ্চিত সন্তান”
কথায় কথা বাড়ে, আর সেই কথায় টেনে নিয়ে যায় অন্য কথায়। পৃষ্ঠা উল্টে না গিয়ে আর থাকতে পারা গেল না, বাধ্য পাঠকের মতই টেনে নিয়ে গেল আমায়।

বাবা, আজ দেশে যাচ্ছি, আমার মায়ের কাছে যাচ্ছি, জানো বাবা, তোমার মুখে যখন মায়ের গল্প শুনতাম গর্বে আমার বুকটা ভরে যেত, ঠিক তেমনি মায়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠত, আর আমি তাকিয়ে থাকতে পারতাম না, ভয় হতো, মায়ের সেই করুণ মুখ, ক্ষত বিক্ষত, বিবর্ণতা, আমি কি করে সহ্য করতে পারি বাবা তুমিই বলো, আমি ত মায়ের সন্তান। রক্ত পিপাসা জেগে উঠত আমার বুকে বাবা, তুমি পারনি, কিন্তু আমাকে যে পারতেই হবে, আমি আমার মায়ের সেই কলঙ্কের দাগ মুছে দিতে চাই বাবা। বাবা তুমি থাকলে আজকে নিশ্চয় অনেক খুশি হতে, তোমার বিদায় বেলায় যে কথাটা সবচেয়ে বেশি বলেছিলে তা যেন আমার কানকে আজকে ভারী করে দিচ্ছে, আমি আমার মায়ের বুকে মরতে পারলাম না। বাবা দেশ ভক্তি, দেশ ইশ্বর, দেশ মাতা আমি তোমার কাছেই শিখেছি। আমি যাচ্ছি বাবা সেই দেশে, তোমার সেই স্বপ্নের দূরন্ত পথের পানে যাচ্ছি আমি।

‌’আমি পথ হাটি তোমার বুকে,
আমি হারায় তোমার মাঝে
শোভিত পল্লী জননী ও আমার
বাংলা, অপরূপ রূপে বিশ্ব সেরা তুমি যে’
মন্দিরে আজো পূজো হয়, সন্ধ্যে প্রদীপ জ্বলে তোমার পিতৃপুরুষের ভিটের উপরে বাবা, আজো এখানে মানুষ বাস করে। তোমার রেখে যাওয়া সেই বাড়ি খানা এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। আজি পৌঁছে ছিলাম, ফারুখের কথা তো তোমার নিশ্চয় মনে আছে, তার সহায়তায়। মাঠ, জঙ্গল সবই আছে এখানে, শুধু নেই সেই মানুষগুলো। বাবা, মায়ের সমাধী আজ আর আমি খুজেঁ পাইনি, হরি প্রসাদ নামের একজন বসত করে এখানে। তার সাথে কথা বলেই জানতে পারলাম, যুদ্ধের অনেক পরে এখানে এসে বসত শুরু করেন উনি। খুব ভালো মানুষ, আমার পরিচয় জানার পরে নিজ সন্তান স্নেহে আপন করে নিয়েছেন।

বাবা, তোমার রাশেদ নামের সেই বন্ধুটির খোঁজ করেছি আজ সারাদিন, কিন্তু কেউ তার কোন খবর দিতে পারলো না। এখানে নাকি, আবুল মাস্টারের সেই বাড়িটির সন্ধান কেউ দিতে পারল না। তবে আমি আশাবাদি অবশ্যই খুঁজে পাব। তোমার দেওয়া বর্ণনা অনুসারে মন্দিরের পরেই স্কুল, তার পরে আম বাগান; বাগান পেরিয়ে মাস্টার বাড়ি। কিন্তু এখন ত এখানে মল্লিক পরিবারের বাস। এটা নাকি উদের পূর্ব পুরুষের বাড়ি। বাবা যদি আমি রাশেদকে খুঁজে নাও পাই তবু আমি রাজ্জাক মল্লিককে ঠিকই খুঁজে পেয়েছি। এলাকায় তার প্রভাব প্রতিপত্তি দেখার মত, এখনো গ্রামে তার উপরে কেউ কথা বলে না। এই এলাকার বর্তমান চেয়ারম্যান উনি। খুব ঘুম পাচ্ছে বাবা, কাল আবার ভোরে উঠতে হবে, গ্রামের অনেকটা অংশ এখনো দেখা হয়নি। সকাল সকাল বের হবো। শুভ রাত্রি বাবা।
‘কান্ত পথিকের বেশে যদি কখনো
আসি তোমার পথে, ঠায় দিবে কি
আমায়; তোমার প্রান্তরে বৃক্ষের ছায়ায়’
রাজ্জাক মল্লিক আমার খোঁজ করছিল, দেখা করতে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করল আমার পরিচয়। যখন বললাম আমি সুধেবের ছেলে, তখন উনার মুখটা দেখার মত হয়েছিল। কখনো হয়থ কল্পনায় করতে পারেনি হয়ত, তোমার বংশধরদের কেউ কোনদিন তার মুখমুখি হয়ে যাবে। ভালো মন্দ অনেক কিছু বললাম। জানতে চাইলাম আবুল মাস্টরের সেই বাড়ি কোথায়? আর রাশেদ ই বা আছে কোথায়? কোন উত্তর পাওয়ার আশা ছিল না, কারণ এর আগেই আমি জেনে গিয়েছিলাম কি হয়েছে তাদের কপালে। পথে হাটতে হাটতে এক বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা, উনার নাম সুসলেম। তোমার নাম জানতে পেরেই উনার চোখে মুখে একটা প্রস্ফুষ্ট হাসি আমি দেখেছি, উনি উদ্ভাসিত ছিলেন। অনেক দিন পর বন্ধুর কোন খবর পেলেন তাই হয়ত এমন হয়েছিল।

বাবা, তুমি কোনদিন মুসলেম নামের কারো কথা বলনি, অবশ্য তোমার লেখা ডায়রিটা আমার এখনো পড়া হয়নি, হলে হয়ত আরো অনেক কিছুই জানতে পারতাম। তবে উনি যা বললেন তাতে আমার জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে আমি তোমার কাছে যতটুকু শুনেছি এই লোক সম্ভবত সেই লোক যে আমাকে বাচিঁয়েছিল আর তোমার কাছে তুলেও দিয়েছিল যুদ্ধের পর। অনেক কথাই শুনলাম উনার মুখে যা আমি আগেও বহুবার তোমার মুখে শুনেছি। তুমি যখন যুদ্ধে যাও তখন আমি মায়ের গর্ভে, তুমি যুদ্ধে চলে যাওয়ার পর এখানে শান্তি কমিটি গঠিত হয়, তারপর পাক হানাদার বাহিনীর সহায়তায় অনেক মানুষ হত্যা করা হয়। আমাদের পরিবারের সবাইকে যখন হত্যা করা হয়। যখন আমার জন্ম হলো তখন এখানে তুমুল যুদ্ধ চলছে। ঠাকুরমশায় যখন জানতে পারলেন, যে কোন সময় পাক বাহিনী আমাদের বাড়িতে হামলা করতে পারে তখন মা এবং পিসিকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন উনার বন্ধুর বাড়িতে, মুসলেম আংকেল তখন তোমার থেকেও কিছু কম বয়সী। দুভাগ্য মায়ের পিছু ছাড়েনি। আমার জন্মের দুুইদিন পরেই রাজ্জাক মল্লিক জানতে পেরে যায় মা উনাদের বাড়িতে আছেন, সাথে সাথে দলবল নিয়ে সেখানে হামলা করেন। হত্যা করেন মুসলেম আংকেল এর বাবা, আমার মা, পিসি সহ সবাইকে। সৌভাগ্যক্রমে মুসলেম আংকেল সেখান থেকে আমাকে নিয়ে পালিয়ে যান। তারপরের কাহীনি তো তোমার মুখেই শোনা বাবা। যুদ্ধের শেষে যখন তুমি রাশের আংকেল সহ আরো মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে ফিরছিলে তখন মুসলেম আংকেল তোমায় আসতে না করেছিল। আমাকে তোমার কোলে দিয়ে তোমাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলেছিল। কেন বলেছিল বাবা জান, রাজ্জাক মল্লিক এলাকায় রটিয়েছিল তোমরা রাজাকার। তোমাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। যেমনটি ঘটেছিল রাশেদ আংকেল এবং উনার পরিবারের সাথে। বাবা জান, খুব কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে যে, সেই মাষ্টার বাড়ির নাম আজ এখানে কেউ বলতে পারে না, কয়েকজন বৃদ্ধ ছাড়া। মাষ্টার বাড়ির নাম পাল্টে মল্লিক বাড়ি হয়ে গেছে এখানে।

আজ যখন রাজ্জাক মল্লিকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনিই তাহলে শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন এই গ্রামে, উনি হাস্যোজ্জল মুখে স্বীকার করে নিল। এও শিকার করে নিল সেই দিন যদি তোমাকে গ্রামে পাইত তবে সবার সাথে তোমাকে হত্যা করা হতো। বাবা একটা কথা, তুমি যদি জানতে পার তবে হয়ত স্বর্গে বসেও তোমার কষ্টটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এখানে যে রাজাকার লিস্ট আছে সেখানে রাশেদ আংকেলের নাম প্রথমে, তোমার নাম দ্বিতীয়। বাবা এই লজ্জা আমি কোথায় লুকোয়? উল্টো আমায় কি হুমকি দিল জানো বাবা; আমি রাজাকারের ছেলে, যদি বেশি বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমাকেও জীবিত পুতে ফেলবে। বলে কি জান বাবা, গ্রামের পথ একটু সাবধানে হাটবেন, কখন উষ্টা খান তা ত বলা যায় না। যদি পড়ে যান তাহলে ত জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে। জানো বাবা, খুব ইচ্ছা করছিল তখনই গলাটা টিপে ধরে হত্যা করে ফেলি। কিন্তু বাবা আমি পারিনি, জীবনে কখনো কারো গায়ে একটা থাপ্পর দেইনি আমি, আমার সাহস কুলোয়নি।

বাবা, একটা অতৃপ্ততা নিয়েই দেশে ফিরে যাচ্ছি, যাওয়ার আগে এই ডায়রীরা আমার বন্ধুকে ফারুখকে দিয়ে যাচ্ছি, শুনেছি সে পুলিশের বড় অফিসার। কত বছর পর ওর সাথে দেখা, খুব ইচ্ছা করছিল ওর বাসায় গিয়ে দুয়েকটা দিন থেকে তারপর দেশে ফিরব। অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম, আবার পিতৃভূমিতে এসে বসবাস করব কিন্তু হলো না বাবা। বুকটা ভারি হয়ে আসছে, আমি পারব না আমার মায়ের খুনির সাথে বসবাস করতে। বাবা, আমি স্বপ্ন দেখি একদিন আমি আমার জন্ম ভুমিতে ফিরে আসব। আবার আমি কাদব, হাসব, খেলা করব, ছুটে বেড়াইব আমার এই জন্মভূমির ধুলিতে। গান গাইব, ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা।

‘বিদায় বলিতে নাহি হয়, তবু বলেছি বিদায়
একবুক আশা আমার ফিরিব আবার তোমার
বুকে, পূর্ণতা নিয়ে, সেই আশায় এবার যাই।’
বাবা আমি অসহায়, রাজ্জাক মল্লিকের অনেক ক্ষমতা, আমার মত মানুষের পক্ষে তার কিছুই করার সম্ভব নয়, বলতে পার আমি পালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু না বাবা, আমি একটা অঙ্গার জ্বালিয়ে দিয়ে গেলাম। আমার স্ব-জাতী আমায় স্বাদরে গ্রহণ করবে এই আশায়।

ড্রাইভারকে বললাম, গাড়ি ঘুরাও। অফিসে যাব না আজ, চলো মল্লিক বাড়ির উদ্দেশ্যে। একটা বুলেট এর জন্য আমি ফাঁসিতে ঝুলতে রাজি, কিন্তু কোন মায়ের খুনির সাথে না।

Advertisement

কমেন্টস