শরণার্থীর আর্তনাদ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭

মুজতবা আহমেদ মুরশেদ-

বিষাদময় সুরের ভেতরেই আমি একদা গৃহহীন হয়েছিলাম।
নাফনদীর ফেনিল ঢেউয়ে বুলেটে ফােকর হওয়া বুকের রক্তস্রােত তখন ধুয়ে যাচ্ছিল।
তবুও তুমি করুণাও নিয়ে আসোনি একবার!
আমি শরণার্থী হলে এ সভ্যতার ক্ষতি কতটুকু!
বিধ্বস্ত রোদের খণ্ড আমার চারপাশে।
আর আমি প্রতিদিন জোড়া দিতে চাই প্রেম।
আমি প্রতিদিন আরেকটা নতুন পৃথীবি রচনা করতে উনমুখ!
তবুও তুমি তোমার নির্মমবুটের ডগার তলে মানুষের বদলে শরণার্থী করেই রেখে দিলে আমাকে।

অতঃপর আমি বালুতট আঁকড়ে বাঁচি।
অতঃপর আমি বালুর সিথান হতে মাথা তুলে তাকাই জন্মভূমির দিকে।
আমি গৃহহীন এক নিঃস্ব রিক্ত শরণার্থী হলে এ সভ্যতার কার কী!
এখানে প্রতিদিন পাতারা শরণার্থী হয়।
এখানে প্রতিদিন স্বপ্নেরা শরণার্থী হয়।
এখানে প্রতিদিন মাতৃস্তন শরণার্থী হয়।
এখানে প্রতিদিন জননী জঠর শরণার্থী হয়।
আমিও শরনার্থী হলে এ সভ্যতার কার কী!

এই যে দ্যাখো, আমার বুকের কাছ হতে সাগরের উন্মাতাল ঢেউয়ে ছােট্ট আত্মজা হারিয়ে গেলাে।
এই যে দ্যাখো তোমাদের রচিত বিষাদময় সুরের ভেতর আমি বার বার পরিচয়হীন হয়ে পড়ছি।
এই যে দ্যাখাে আমার পাঁজর ভেদ করে বল্লমের ফলা এফােঁড় ওফােঁড়।
জানোতো তোমাদের ত্রাণ সামগ্রী
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণা
কোনোই কাজে আসবে না আমার।
আমি শরণার্থী হলে এ সভ্যতার কার কী!
১৪ সেপ্টেম্বর-২০১৭, ঢাকা।

কমেন্টস