টি এস সি

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৫, ২০১৬

অমিক শিকদার-
ফেলে আসা দিনগুলো বার বার পিছু ডাকে
টি এস সি কবে গিয়েছি ঠিক মনে পড়ছে না,
মধুর ক্যান্টিনে এখন আর চা খাইনা ঠিকই
তোদেরকে কখনো ভুলতে পারব না।

সময়ের সাথে সাথে দূরত্বটাও বেড়ে যায়
কিন্তু মনের টান ঠিকই রয়ে যায়।

রাজু ভাস্কর্য যেমন মাথা উঁচু করে
দাঁড়িয়ে রয়েছে
আমার মনে হয়, এইতো সেদিনও
আমরা রাজপথে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম
এই রাজু ভাস্কর্যকে ঘিরে
কত দাবিই না আদায় করেছিলাম।

সন্ধ্যাবেলা গানের আড্ডা, কবিতার মঞ্চ
আর চায়ের কাপে চুমুক না দিলে
দিনের ১৬ আনাই বৃথা মনে হত।
এই টি এস সি ঘুরেই
অর্ধেক সময় কেটে যেত।

তোমার আমার দেখা তো এখানেই হয়েছিল
তারপর কত গদ্য, রম্যরস, সাহিত্য রচনা
বাকিটা আর বললাম নাহ।

তোমার দেখা পাওয়ার আগে
সিগারেটকে খুব পবিত্র মনে করতাম
কারন তোমার উষ্ণ ঠোটের চুম্বন
সিগারেটের মাঝে খুজে পেতাম।

রুবেলের ‘অরুনারী’ বইয়ের অর্ধেকটা
টি এস সি তে বসেই লিখেছিলো।
জুবায়ের তখন তাচ্ছিল্যভাবে হেসেছিল
অথচ বই বের হলো
তাও প্রায় একবছর হয়ে গেল।

মিয়াদ রিয়ার প্রেমলীলা দেখে
লজ্জায় মুখ লুকাত রাজু ভাস্কর্য।
আরো কত অজানা প্রেম কাব্যের
সৃষ্টকারী আমাদের প্রিয় টি এস সি।

মধুর ক্যান্টিনের চা সিঙ্গারা খেয়ে
পার করেছি জীবনের বহুদিন
রুদ্রের অমর কবিতাগুলোর জন্ম হয়েছিল
এখানের চা আর সিঙ্গারা খেয়েই।

স্মৃতিগুলো মস্তিষ্ক থেকে হারিয়ে যায়নি;
এখনো খুব মনে পড়ে
মধুর ক্যান্টিন, রাজু ভাস্কর্য, টি এস সি।

 

Advertisement

কমেন্টস