বইমেলায় আলোচিত নাম স্বরলিপির ‘নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল’

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬

আরিফ চৌধুরী শুভ-

‘আমি গাঙের দেশের মানুষ। যুদ্ধ বলতে বুঝি ডুবে যাওয়া আর ভেসে থাকা।’ লেখকের এই অটোগ্রাফ যখন বাংলা একাডেমির লিটল মেগ চত্বরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পাঠককে জীবন যুদ্ধের কথা ভাবিয়ে তোলে, ঠিক তখনই ‘নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল’ উপন্যাসের নামের অর্থের অজানা রহস্য খুঁজে পাওয়া যায়।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, একটি সুন্দর নাম একগাদা সম্পদের চেয়েও উত্তম।বইয়ের এই সুন্দর নামাকরণ নির্ভর করে লেখকের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও লৈখিক শিল্পবোদের উপর। একটি নামই বলে দিতে পারে লেখকের হাজারও বর্ণমালার গাঁথুনি কোথায় গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে। যদিও এবারের বইমেলায় নামে বেনামে বহু বই পাঠককে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।

‘নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল’ বইটি নবীন লেখক স্বরলিপির একটি সামাজিক ছোট উপন্যাস। অর্বাক প্রকাশনী থেকে এবারের বইমেলায় প্রকাশিত বইটি পাওয়া যাচ্ছে বাংলা একাডেমির লিটল মেগ চত্বরে।

সমাজ বির্বতনে প্রচলিত কিছু অতীত ধারণা যেগুলো সমসাময়িক এবং ভবিষ্যতের বার্তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে, সেই দৃষ্টি ভঙ্গির স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে। মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রকাশের যে মনোভাব, সেটি সামষ্টিগতভাবে কোন দিকে যাচ্ছে তারও একটি সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠেছে উপন্যাসটির প্রতিটি অনুগল্পে।

তবে ব্যতিক্রমতার জায়গাটা লেখক নিজেই স্পষ্ট করেছেন তার লেখায়। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আলদা আলদা নায়ক থাকে। এটাই সত্য। তাই কেন্দ্রিভূত কোন চরিত্র কল্পনা করতে লেখক নারাজ। সেজন্যই ‘নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল’ উপন্যাসটিতে কোন কেন্দ্রিয় চরিত্র স্পষ্ট নাই। পুরো বিষয়টি জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি।

শত বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে নতুন লেখকের খাতায় নাম লেখালেও মোটেও বিচলিত নন হবু লেখকদের নিয়ে। তাদের প্রতি স্পষ্ট ভাষায় স্বরলিপির অভিমত ‘ নিজের মত চেষ্টা করে যাওয়াটাই লেখক হয়ে উঠার প্রথম শর্ত। আর এই চেষ্টার মাঝে কেউ না কেউ সত্যিকারের পথের সন্ধান খুঁজে পাবে।’

 

Advertisement

কমেন্টস