আল কোরআন বাংলা মর্মবাণী

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২, ২০১৬

আবুল হাসান-
শহীদ আল বোখারী মহাজাতক অনূদিত আল কোরআন বাংলা মর্মবাণীটি পড়লাম। এ জন্য গত ৫ দিনে অন্য কিছু পড়িনি। পড়তে গিয়ে রোমাঞ্চিত হয়েছি, আলোড়িত হয়েছি। এটা কোরআনের সরাসরি অনুবাদ নয়, বরং মর্মবাণী বা অন্তর্নিহিত অর্থ।
এটিতে মোট পৃষ্ঠা আছে ৬৫৬টি।

এক জায়গায় বলা হয়েছে “মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই তাড়াহুড়োপ্রবণ ” (২১/৩৭) এই লাইনটা এখনো আমাকে আলোড়িত করে।

আর এক জায়গায় বলা আছে: আসলে মানুষ (সিদ্ধান্ত নিতে) অতিমাত্রায় তাড়াহুড়ো করে। (১৭/১১)

একেবারে শুরুর দিকে বলা হয়েছে-“এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
এই বিষয়টা লক্ষণীয়। কারণ, কোনো গ্রন্থকার এ যাবত বলেননি তার বইয়ে কোনো ভুল নেই। বরং উল্টোটাই বলে থাকেন সবাই।

এই বইয়ের নির্ভুলতার বিষয়ে চ্যালেন্জ করা হয়েছে: “(হে নবী! ওদের) বল, পৃথিবীর সকল মানুষ ও জ্বিন যদি একযোগে, সকল শক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালায়, তবুও এ কোরআনের মতো আর একটি কোরআন আনতে পারবে না।”( ১৭/৮৮)

মানুষবিষয়ক কথাগুলো আমাকে বেশী আকৃষ্ট করে, যেমন-“মানুষ সাধারণভাবে বিতর্কপ্রিয়।” (১৭/৫৪)

“(অপরের তুলনায়) বেশী সুখসম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে আমৃত্যু মোহাচ্ছন্ন করে রাখে।” (১০২/১-২)

“আসলে মানুষ স্বভাবগতভাবেই কৃপন।” (১৭/১০০)

“তিনি (তুচ্ছ) শুক্রবিন্দু থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আর (কি আশ্চর্য!) এখন সে (স্রষ্টাকে নিয়ে) প্রকাশ্য বিতর্ক করে!” (১৬/৪)

“মহাকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে, তা আমি অযথা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি।” (২১/১৬) এই লাইনটা পড়ার সময় বিদ্রোহী কবি নজরুলের কথা মনে পড়েছে।
তিনি কি এই কথাটা পড়েননি?
তিনি লিখেছেন-
‘খেলিছো এ বিশ্ব লয়ে/ বিরাটও শিশু/ আনমনে।’
হতে পারে নজরুল অন্য কিছু বুঝিয়েছেন।

যাই হোক, মহাজাতকের উপস্থাপন ভঙ্গি ভাল লেগেছে। আন্তরিকতার ছোঁয়া আছে।
বিশেষত Diction বা শব্দচয়ন অসাধারণ। কঠিন কঠিন আরবি-ফারসি পরিভাষার বদলে সাবলীল বাংলা শব্দ ব্যবহার করেছেন।

একটা দৃষ্টান্ত দেয়া যাক-হুরের প্রসঙ্গটা আসলেই আমাদের মাথায় আসে নারীমূর্তি।
এর দায় সম্ভবত অতীতের অনুবাদকদেরই নিতে হবে।

বিশ্বব্যাপী এ যাবত কোরআনের যত অনুবাদ হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে মানসম্পন্ন মনে করা হয় উপমহাদেশের আব্দুল্লাহ ইউসূফ আলির করা ইংরেজি অনুবাদকে।
তিনি হুরের বদলে ব্যবহার করেছেন-Spouse যার বাংলা দাঁড়ায় সাথী বা সঙ্গী।
মহাজাতকও এই সাথী শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেটা যথার্থ।

বইটা প্রকাশিত হয়েছে ২০১৪ সালের রমজান মাসে।
উৎসর্গ পৃষ্ঠায় মহাজাতক লিখেছেন: “মুক্তমনে সত্য জানতে আগ্রহী নতুন প্রজন্মকে”।

 

Advertisement

কমেন্টস