কবি সাযযাদ কাদিরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশঃ এপ্রিল ৬, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

গত বছরের ৬ এপ্রিল আজকের এই দিনে ৭০ বছর বয়সে মারা যান কবি, বহুমাত্রিক লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক সাযযাদ কাদিরের।

গত বছরের ৭ এপ্রিল টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দেলদুয়ারে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরে পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সাযযাদ কাদির শুধু কবিতাই নয়; গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ-গবেষণা, শিশুতোষ, সম্পাদনা, সংকলন, অনুবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- যথেচ্ছ ধ্রুপদ (১৯৭০- কাব্যগ্রন্থ, চন্দনে মৃগপদচিহ্ন (১৯৭৬- গল্পগ্রন্থ, লাভস্টোরি (১৯৭৭)- অনুবাদ, রাজরূপসী, প্রেমপাঁচালী, হারেমের কাহিনী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রবন্ধসমগ্র- সংকলন, বেগম রোকেয়া প্রবন্ধসমগ্র- সংকলন, পৃথিবীর প্রিয় প্রণয়ী, অপর বেলায়- উপন্যাস, অন্তর্জাল (২০০৮- উপন্যাস, রবীন্দ্রনাথ: শান্তিনিকেতন (২০১২- গবেষণা, রবীন্দ্রনাথ: মানুষটি (২০১২- গবেষণা, নারীঘটিত (২০১২- প্রবন্ধ, খেই (২০১২- উপন্যাস, বৃষ্টিবিলীন (২০১২- কাব্যগ্রন্থ।

সাহিত্যিক হিসেবে তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গের নাথ সাহিত্য ও কৃষ্টিকেন্দ্রিক সাহিত্য-পত্রিকার শৈবভারতী পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, এম নুরুল কাদের পুরস্কার, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পদক, ভাষাসৈনিক শামসুল হক পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সাযযাদ কাদির ছিলেন ষাটের দশকের অন্যতম কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক। শিক্ষকতা ছেড়ে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা। তিনি দৈনিক মানবজমিনের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সাযযাদ কাদির ১৯৪৭ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার মিরের বেতকা গ্রামে তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায়।

তিনি ১৯৬২ সালে বিন্দুবাসিনী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৬৯ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে তিনি করোটিয়া সা’দত কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি কলেজের চাকরি ছেড়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৮ সালে বিচিত্রা ছেড়ে রেডিও বেইজিংয়ে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে রেডিও বেইজিংয়ের চাকরি ছেড়ে দেন এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় যুক্তছিলেন।

এর পর ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কাজ করেন আগামী-তারকালোক পত্রিকায় পরবর্তীতে এটি ত্যাগ করেন ও দৈনিক দিনকালে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে দৈনিক দিনকাল হতে ইস্তফা দিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটে এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত এখানে কর্মরত থাকেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি মানবজমিন ছেড়ে পূর্ণকালীন লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।

কমেন্টস