মা,“ও মা তোর পায়ে দিস মোরে ঠাঁই”

প্রকাশঃ জুন ৯, ২০১৭

মা,“ও মা তোর পায়ে দিস মোরে ঠাঁই”
এম আরমান খান জয়

তুমি মা বলে
আমি তব সন্তান
তুমি বিনা কভু
এ ধরায় হত না মোর স্থান

তুমি রাত্রির অনাবিল  স্নিগ্ধতা
তাই আমি দিনের আলোয় অলোকিত
আমি হয়েছি আজ ফলবান কারণ 
তুমি ছিলে ফুলে ফুলে সুশোভিত

তুমি মেঘ হয়ে রেখেছ মোরে ছায়ায়
কিংবা বারিষ হয়ে ঝরেছ ধারায়
তোমাকে সাগর মেনে আজ আমি নদী
তুমিই ভালোবেসেছ মোরে নিরবধি….
মা, ও মা তোর পায়ে দিস মোরে ঠাঁই
আমি যে সেথায় আশ্রয় চাই।

বলুন দেখি, কোন সে প্রিয় জন যার নিঃস্বার্থ ত্যাগ আর ভালোবাসার ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে উঠেছে আমাদের জীবন? কে তিনি? যিনি তার সারাটি জীবন নিজের শান্তিকে পীড়িত করে  স্নেহের আঁচল বিছিয়ে রেখেছেন আমাদের চলার পথে? নিজের  সমস্ত  স্বার্থ আর সুখকে বিসর্জন দিয়ে আমাদেরকে মমতার ছায়ায় জড়িয়ে রেখেছিলেন শৈশবের দিনগুলোয়। জীবনের এ পর্যায়ে এসে ও যার বিনিদ্র রজনীর দোয়া আর প্রভুর দরবারে মিনতির ধর্ণা আর্শীবাদের ঝর্ণাধারা হয়ে সিক্ত রেখেছে আমাদের চলার পথকে। মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে মা’কে মনে পড়ে আমার মা’কে মনে পড়ে.. 

আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন তিনিই আমাদের প্রিয়  স্নেহময়ী ‘মা’। যাকে নিয়ে কবিরা তুলেছেন ছন্দের জোয়ার, গীতিকার তুলেছেন সুরের মূর্ছনা। বহতা জীবনের পথ চলার বাঁকে আমাদের কারো জীবনে স্নেহময়ী  মা’য়ের উপস্থিতি হয়তো এখনো সুখের কাঁপন ছড়ায়। আর কারো বা মাথার উপর হাত বারিয়ে  যাওয়া সেই স্নেহের আঁচল বেদনার বারিধি জাগায় প্রতিক্ষণ। হারিয়ে যাওয়া সব মা’য়েদের জন্য আমরা জান্নাতুল ফিরদাউসের দরখাস্ত জানিয়ে রাখলাম পরম করুণাময়ের দরবারে। 

মা তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্মানিত…
মা, মা। একটি অক্ষরের এক শব্দ। যার ওজন পৃথিবীর কোন দাড়িপাল্লায় ওজন করা সম্ভব নয়, যার উচ্চতা মাপার কোন যন্ত্র পৃথিবীতে নেই। যার মূল্য প্রত্যেকটি সন্তানের শরীরের চামড়া কেটে মায়ের পায়ের জুতা বানিয়ে দিলেও শোধ হবে না। পৃথিবীর কোন লোভ মাকে তার সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবেনা। মায়ের অভাব পৃথিবীর কোন কিছু পূরন করতে পারবে না। মায়ের সম্মান দুনিয়ার কোন পুরস্কার  দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না। মা, মা এর তুলনা শুধুই মা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে আসে তখন থেকে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত মা যে কত কষ্ট করে তা মা ছাড়া পৃথিবীর কেউ বুঝবে না। সন্তান জন্মদানের কষ্ট কেবল মা বলেই সহ্য করে অন্য কেউ হলে দুনিয়াতে এত কষ্ট নিয়ে সন্তান জন্ম দিত না। আমরা জানি ব্যথার একক হল ডেল। সাধারনত একজন মানুষ তার শরীরে ৪৫ ডেল ব্যথা সহ্য করতে পারে। এর বেশী ব্যথা হলে মানুষ মরে যায়। আর মা তার সন্তান জন্ম দানের সময় ৫৫ডেল ব্যথা সহ্য করেও বেঁচে থাকে। যা শরীরের ২০ টি হাড় একসাথে ভেঙ্গে গেলে যে ব্যথা হয় তার সমান হল ৫৫ডেল। তাহলে বুঝুন মা কত ব্যথা সহ্য করে আমাদের জন্ম দেন। জন্ম থেকে শুরু করে বড় হওয়া পর্যন্ত মায়ের যে ত্যাগ তা পৃথিবীর কোন কিছু দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়।

আমরা একটু ভালভাবে বুঝতে শিখলেই মা কে ভুলে যেতে থাকি। ভুলে যাই সেই ছোটবেলার কথা যে সময় মা কত কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। ভুলে যাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে। ভুলে যাই বন্ধুদের পেয়ে। বেশী ভুলে যাই যখন চাকরি করে একটি বিয়ে করি। বিয়ে করার পর ফ্লাটে আর মায়ের থাকার জায়গা হয়না। মায়ের আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমে। বউ পেয়ে যারা মাকে ভুলে যায় তাদের সন্তানও হবে,তারাও একদিন বৃদ্ধ হবে তাদের স্থানও বৃদ্ধাশ্রম ছাড়া অন্যকোথায়ও হবে বলে আমার মনে হয় না। 

মাকে বছরের একদিন ভালোবাসার জন্য নয়,একদিন স্মরণ করার জন্য মা নয়। মাকে সেবা,খোঁজ খবর নেয়া এটি প্রতিদিনের কাজ। আমাদের কর্মজীবনে হয়তো বাস্তবতার আলোকে আমাদের মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। কিন্তু এজন্যে মায়ের খোঁজ নেয়া যায় না বা সেবা করা যায় না যারা বলেন তাদের কে আমার মনে হয় মানুষ নামের অন্যকিছু। যারা পশ্চিমাদের অনুস্মরণ করেন ভালকথা কিন্তু তাদের মত করে মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখা কোন ভদ্র মানুষের কালচার হতে পারে না। পশ্চিমা দেশে এখন সবচেয়ে মানসিক রোগী বাস করে। কারন তারা পরিবার প্রথা বিলুপ্ত করতে চলেছে। মাকে যারা অবহেলা করে তাদের থেকে দেশ জাতি কোনদিন ভালকিছু আদায় করতে পারে না।  

মায়ের অধিকার সর্বপ্রথম হযরত ওমর রাঃ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিয়েছিলেন। মাতৃকালীন ভাতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা ওমর রাঃ দিয়েছিলেন। ধন্যবাদ ওমর রাঃ কে যিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাজটি করেছিলেন। বর্তমান যারা শাসক বা যে ব্যক্তিরা মাকে সবচেয়ে সম্মান করেন সকলকে জানাই স্বশ্রদ্ধ সালাম ও অভিনন্দন। আর ঘৃণা জানাই যারা মাকে দুরে রেখে অন্য কোন আশায় সুখ খোঁজে। আজ একশ্রেণীর মাকে ধিক্কার জানাই যারা নিজের সামান্য সুখের জন্য, নিজের দুশ্চরিত্রের কারনে অনেক সন্তানকে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়,ময়লার ড্রেনে,মাটিতে পুতে ফেলে।

মা তোমার ঋণ কোনদিন পরিশোধ করতে পারবো না। শুধু দোয়া আমাদের এদেশের প্রত্যেকটি সন্তান যেন গড়ে ওঠে সৎ,আদর্শবান, দেশপ্রেমিক হিসেবে। দেশের সকল মানুষের মধ্যে যেন কোন ভেদাভেদ না থাকে। সকলে যেন মনে করে একে অন্যের ভাই। মাগো তোমাকে ভালবাসি প্রতিটি দিন,প্রতিটি সময়। পৃথিবীর সকল মাকে আমার পক্ষ থেকে ভালবাসা জানাই। আর যাদের মা বেঁচে নেই সৃষ্টিকর্তা যেন সে মাকে সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেন।

Advertisement

কমেন্টস