দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কমিউনিটি ট্যুরিজম

প্রকাশঃ আগস্ট ৮, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক:

পরিবর্তন এসেছে পর্যটকদের রুচির। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রা ও সংস্কৃতি জানতে আগ্রহ বাড়ছে দেশি বিদেশি পর্যটকদের। তাই দেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কমিউনিটি ট্যুরিজম। যেখানে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি বা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে সময় কাটান পর্যটকরা।

কমিউনিটি ট্যুরিজম বিকাশের লক্ষ্য সরকারের পাশাপাশি কাজ করেছে বেশ কিছু বেসরকারি পর্যটন উদ্যোক্তারা। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কমিউনিটি নির্ভর পর্যটন বিকাশে সরকারি পর্যায় থেকে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়।

একটা সময় ছিল যখন পর্যটন বলতেই আমরা বুঝতাম কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত কিংবা সুন্দরবন ঘুরে দেখা। এখন সৈকতে গিয়ে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত উপভোগ করা বা পাহাড়ে চড়ে দিগন্ত রেখা দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না পর্যটকদের ভ্রমণ সূচি।

অনেক বেশি রোমাঞ্চ প্রিয় এখনকার তরুণ পর্যটকরা। শহরের যান্ত্রিকতার এক ঘেঁয়েমিতা  কাটাতে প্রকৃতির অনেক কাছাকাছি যেতে চান তারা। যেখানে একজন পর্যটক খুব সহজেই মিশে যেতে পারবে মাটি আর মানুষের সাথে। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খুব সাধারণ জীবন যাত্রার সাথে মিশে যেতে যান অনেক ভ্রমণকারী। দেখতে চান প্রকৃতি আর জীবন কতটা মিলেমিশে একাকার এখানকার জীবনযাত্রায়। পর্যটকদের আগ্রহ থাকায় তাই দেশে দিনদিনই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রোমাঞ্চর  ভিন্নধর্মী এ ধরনের পর্যটনের।

বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামজিদ সিদ্দিক স্পন্দন বলেন, কোন বিশেষ অঞ্চলে যে মানুষগুলো আছে, আমরা সেখানে টুরিস্ট পাঠাচ্ছি, আর সেখানকার কমিউনিটির লোকজনই তাদেরকে সার্ভিস দিচ্ছে। তবে, এই ক্ষেত্রে কমিউনিটির আগ্রহ আছে কি-না। কারণ ওইখানে গিয়ে আপনি সবকিছু পাবেন না।

এক্ষেত্রে তারা যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকে, তাহলে কিন্তু কমিউনিটি টুরিজ্যুম গ্রো করবে না। সেই সঙ্গে এখনকার মানুষ এখন খুঁজে অভিজ্ঞতা এবং অ্যাডভেঞ্চার।

আজিয়া ফেয়ার ট্রেড লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদ হুসাইন বলেন, বাংলাদেশের যতগুলো কমিউনিটি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের আলাদা সংস্কৃতি ও আচার রয়েছে। কমিউনিটি সম্পৃক্ত না হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে টেকসই পর্যটনের জন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা জরুরী বলে মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। যার মধ্য দিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পর্যটন পরিবেশ ও পর্যটন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। তাই এ ব্যাপারে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল ইসলাম বলেন, ট্যুরিজম বোর্ড এই বিষয়ে কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন কমিউনিটিতে গিয়ে তাদেরকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে টার্গেট পূরণ করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এছাড়াও যেসব বিদেশি পর্যটকরা আসে, তারা কিন্তু হৈ হুল্লোড় পছন্দ করে না। তারা প্রাকৃতিক পরিবেশকে উপভোগ করবে, সেখানে পাহাড় ঝর্ণা ও নীরবতা থাকবে।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ কয়েকটি এলাকায় কমিউনিটি ট্যুরিজম চালু হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্য নিয়ে চালু হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটনের নতুন দিগন্ত।

কমেন্টস