পটুয়াখালীর সাগর পাড়ে শুরু হয়েছে সমারোহে শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

সমুদ্র উপকূলীয় সাগর পাড়ে সামুদ্রিক মাছ শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

জীবন-জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব জেলে পরিবারগুলো ছুটে এসে অবস্থান নিয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কুয়াকাটাসহ উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে। ছেলে মেয়ে নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ছোট ছোট ঝুপরি ঘর তুলেছেন তারা। আর পাশের জঙ্গল থেকে গাছ কেটে শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের অসংখ্য মাচা তৈরী করেছেন। এ ব্যবসা লাভজনক হওয়াতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর শুঁটকি পল্লীগুলোতে ঘরের সংখ্যা বেড়েছে বলে জেলেরা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন শুটকি পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক মাছ ধরা ট্রলার গভীর সমুদ্র থেকে তীরে আসছে। সেখান থেকে শুটকি ব্যবসায়ীরা পোয়া, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, পোটকা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্রা, চিংড়ি, ছুড়ি, হাঙ্গর, ভোল, মেদসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনছেন। কেউ কেউ ওইসব মাছ পরিস্কার করছেন। কেউ কেউ শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক শুটকি ব্যবসায়িরা জানান, প্রতিদিন এখানকার শুটকি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হচ্ছে। এখান থেকে সরকারিভাবে এসব শুটকি বিদেশে রপ্তানীর দাবি জানান তারা।

শুটকি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন শুটকি উৎপাদনের জন্য মৎস্য বিভাগ আমাদের প্রশিক্ষন দিয়েছে। এ বছর সাগরে ভাল মাছ ধরা পড়ছে। মাছের দাম একটু বেশি হলেও লাভ হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা।

শুঁটকি ব্যবসায়ি শাহজাহান মিয়া জাানান, এখানে সরকারিভাবে কোন শুটকি রপ্তানীর ব্যবস্থা নাই। এখান থেকে শুটকি মাছ চালান করতে তাদের খরচ বেশি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, সম্ভাবনাময় এ শুটকি শিল্পকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুটকি উৎপাদনের জন্য জেলেদেরকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে।এছাড়া নিরাপদ ও মানসম্পন্ন শুটকি তৈরিকরণে তাদের নজরদারী রয়েছে বলে তিনি জানান।

কমেন্টস