সন্তানের সাথে বিরূপ আচরণের প্রভাব কি হয়?

প্রকাশঃ জুন ২৯, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক – 

আপনার সন্তান কোন কথা শোনে না, যা বলবেন তা না করে উল্টো করে বসে। তাই রেগে গয়ে খাওয়াতে বা কাজ করিয়ে নিতে বুকাঝকা দেন, মারধরও  করেন। আবার অনেক সময় রুমে আটকে রাখেন। এইগুলো কি ঠিক? এটা কি আপনার বাচ্চার উপর বিরূপ  প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না?

আসুন জেনে নেই বাচ্চাদের সাথে এরূপ আচরণের প্রভাব কি হতে পারে –

১। মানসিক ভারসাম্য

ক্রমাগত নির্যাতিত হলে আপনার সন্তানের মানসিক ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে যায়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে ভুগতে এক পর্যায়ে সে প্রচন্ড মানসিক চাপে ভোগে। এভাবে মানসিক চাপে থাকতে থাকতে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত মারধোর করলে আপনার সন্তান সারা জীবনের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।

২। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নষ্ট

সন্তানকে নিয়মিত মারধোর করলে বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। কথায় কথায় মার দিলে বাবা মা কে নিজের অনেক দূরের কেউ ভাবতে আরম্ভ করে সন্তানরা। বাবা মায়ের প্রতি মানসিক টান একেবারেই থাকে না এধরনের নির্যাতিত শিশুদের।

৩। একাকিত্ব ও বিষণ্ণতা অনুভব

যেসব শিশুরা নিয়মিত বাবা মায়ের কাছে শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয় তাঁরা সাধারণত নিজেদেরকে একা ভাবে এবং প্রচন্ড বিষন্নতায় ভোগে। বাবা-মাকে আপন করে না পাওয়া ও নির্যাতনের ভয়ে কুঁকড়ে থাকে এসব শিশুরা।

৪। লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে যাওয়া

যেসব শিশুরা খুব ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের অতিরিক্ত কড়া শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে তাঁরা সাধারণত লেখাপড়ায় খারাপ হয়। আর এর পেছনের কারণ হলো কিছুতেই লেখাপড়ায় মন বসাতে পারে না এই শিশুরা। সারাক্ষণ আতঙ্ক ও হতাশার কারণে পড়ার টেবিলে বসে সারাদিন পড়লেও কিছু মনে রাখতে পারে না তাঁরা। আর আত্মবিশ্বাস কমে যায় বলে পরীক্ষার খাতাতেও ঠিক মত লিখতে পারে না এসব শিশু।

৫। হিংস্র ও চুপচাপ স্বভাব হয়ে যাওয়া

ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার শিশুরা অধিকাংশই হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে। আবার কিছু সংখ্যক শিশু হয় খুব ভীতু। জীবনের চলার পথে প্রতিটি পা এগুতেও খুব বেশি ভয় পায় তাঁরা। ফলে সব সময়েই সবার পেছনে পড়ে থাকে।

সন্তানের সাথে বিরূপ আচরণের প্রভাব কি হয়?

৬। প্রতিশোধ নেয়ার মনোভাব

আজকে আপনি সন্তানকে নির্যাতন করছেন। কিন্তু মনে রাখবেন একদিন সন্তানও আপনার ওপরে এটার শোধ নেবে। কারণ আপনার সন্তানের কচি মনে আপনিই এই বীজ বুনে দিচ্ছেন। যেসব শিশুদেরকে ছোট বেলাতে বাবা মায়েরা অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে তাঁরা সাধারণত বড় হয়ে বাবা মাকে ঘৃণা করতে শেখে এবং একপর্যায়ে বাবা মায়ের সাথে হিংস্র আচরণ করে।

৭। জীবন সম্পর্কে খারাপ ধারণার জন্ম

আপনার শিশুটি এই সুন্দর পৃথিবীতে জন্মেছে। সে যত বড় হবে পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা ও জ্ঞান তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আপনি যদি তাকে ছোট বেলা থেকেই মারধোর করেন এবং মানসিক নির্যাতন করেন তাহলে তার শৈশব কৈশোর নষ্ট হবে। ধীরে ধীরে পৃথিবী সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মে যাবে তার মনে।

 

Advertisement

কমেন্টস