অন্দরমহলে সিঁড়িঘর!

প্রকাশঃ অক্টোবর ৩১, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ডুপ্লে বা ট্রিপ্লে ফ্ল্যাটে সিঁড়ি হল লিভিং রুমের প্রধান অংশ৷ আর এই সিঁড়িকে একটু পরিকল্পনা করে সাজালেই দেখবেন আপনার চেনা ফ্ল্যাট কেমন অচেনা লাগছে। ফ্ল্যাটের দাপট বাড়ায় এখন অন্দরমহলে সিঁড়ি তেমন দেখা যায় না৷ সিঁড়ি মানে ‘কমন’ এরিয়া। তবুও যাঁদের ডুপ্লে বা ট্রিপ্লে রয়েছে বা সাবেক বাড়িই যাঁদের ঠিকানা, তাঁদের অবশ্যই সুযোগ রয়েছে সিঁড়ি সাজিয়ে রাখার।

প্রধানত তিন প্রকারের সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়-

রেগুলার স্টেয়ারস

দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার পথে যে সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহার করে থাকি তাই রেগুলার স্টেয়ারস৷ তবে এই সিড়ির মধ্যে ভিন্নরকমের ডিজাইন করা যায়৷ ডুপ্লে বা ট্রিপ্লে ফ্ল্যাটের সিঁড়ি কাঠ কিংবা গ্লাসের তৈরি করতে পারেন৷ কাঠ একাধারে যেমন ঘরে আনবে উষ্ণতার ছোয়া, অন্যদিকে ট্র্যাডিশনাল লুক৷ আর গ্লাস হলে আধুনিক লুক৷ সিড়ির পুরো ডিজাইন নির্ভর করবে ফ্ল্যাটের ডিজাইনের ওপর, সঙ্গে অবশ্যই ব্যক্তিগত রুচি৷ তবে লিভিং রুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সিঁড়িকে সজ্জ্বিত করবেন।

স্পাইরাল স্টেয়ারস

বাড়ির বাইরে দিয়ে দোতলা যেতে কিংবা ছাদে ওঠার ঘোরানো সিঁড়িকে বলা হয় স্পাইরাল স্টেয়ারস৷ কিন্ত্ত এই সিঁড়ি খুব কম বা সরু জায়গার মধ্যে তৈরি করতে হয়৷ আর তাই এই ধরণের সিঁড়ি কংক্রিটের না করে মূলত মেটাল দিয়ে তৈরি করাই ভালো৷

কার্ভ স্টেয়ারস

এই সিঁড়িকে আবার খুব কম জায়গার মধ্যে নির্মাণ করা সম্ভব নয়৷ তাই বড় জায়গায় ইণ্ডিয়ান কিংবা ইটালিয়ান মার্বেল দিয়ে কার্ভ স্টেয়ারস সাজাতে পারেন৷ পুরোটাই অবশ্য বাজেট বুঝে৷ কারণ মার্বেল সর্বদাই খরচসাপেক্ষ৷

কোয়ার্টার ল্যাণ্ডিং

অনেক ফ্ল্যাটেই লক্ষ্য করা যায়, সিঁড়ি দিয়ে কিছুটা ওঠার পর খানিকটা জায়গা তারপর আবার পরের ফ্লোর৷ সেইরকম সিঁড়িকে ইন্টিরয়ের ভাষায় বলা হয় কোর্য়াটার ল্যাণ্ডিং৷ এই ল্যাণ্ডিং- এ আপনার সাজানোর সুযোগ প্রচুর৷ রেখে দিন ছোটো মূর্তি কিংবা মেটালের ফুলদানি বা সুন্দর ল্যাম্প শেড৷ আর যদি ল্যাণ্ডিং-এ কোন জানালা থাকে সেক্ষেত্রে জানালায় ঘষা কাচ কিংবা ডিজাইনার গ্লাস লাগিয়ে দিন৷ খেয়াল রাখবেন আপনি কাঠের সিঁড়ি করান বা গ্লাসের কিংবা স্টীলের, রেলিং- এর যত্নও কিন্ত্ত অবশ্যই নিতে হবে৷ রেলিং হতে পারে রট আয়রনের কিংবা কাঠের৷ আর যদি বাড়িতে বাচ্চা না থাকে সেক্ষেত্রে রেলিংলেস সিঁড়িও তৈরি করাতে পারেন৷ শুধু সিঁড়ির কথা ভাবলেই হবে না, তার পাশের দেওয়ালকেও অন্য রূপ প্রদান করতে হবে৷

দেওয়াল

সিঁড়ির অন্য পাশের দেওয়ালে জায়গা দিতে পারেন ফ্যামিলি ফটো কিংবা পছন্দের কোনও শিল্পীর আঁকা ছবি৷ তবে খেয়াল রাখবেন, ছবিগুলো বিভিন্ন সাইজের হলেও ফ্রেমটা যেন একই থাকে৷ এছাড়া ইচ্ছা করলে টেক্সচারড ওয়ালও করতে পারেন৷

স্টোরেজ

ডুপ্লে বা ট্রিপ্লে ফ্ল্যাটের সিঁড়ির নীচের জায়গাটা খালি না রেখে ব্যবহার করুন স্টোরেজ হিসেবে৷ যদি জায়গা বড়ো হয়ে তাহলে শু বক্স বা বাড়ির যাবতীয় বাড়তি জিনিসকে রাখুন ওই পুলিং বক্সে। ইচ্ছা করলে বইয়ের তাকও বানিয়ে ফেলতে পারেন৷

রাগস বা দরি

সিঁড়ির সামনে ছোটো রাগস রাখা আবশ্যক৷ চাইলে রানিং কার্পেটও দিতে পারেন৷ তবে ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন তা তুলে পরিষ্কার করা এক প্রকার অসুবিধাই৷ আর খরচসাপেক্ষও বটে৷

মাথায় রাখুন

সিঁড়ি সর্বদা পরিষ্কার আর শুকনো রাখুন৷ সিঁড়িতে অ্যান্টিস্কিড টাইলস বসান৷ ইচ্ছা হলে ইন্ডিয়ান বা ইটালিয়ান মার্বেলও লাগাতে পারেন৷ তবে মার্বেলের রঙ যেন হালকা হয়৷ কাঠের সিঁড়ি প্রতি পাচ থেকে ছয় বছর অন্তর অবশ্যই পালিশ করান৷ মনে রাখবেন, সিঁড়ির জায়গা কখনোই যেন অন্ধকার না হয়৷ প্রাকৃতিক আলো ছাড়াও সিঁড়ির ওপরে এলইডি আলো লাগিয়ে দিন৷ ইচ্ছা করলে সিঁড়ির ওপরের সিলিং-এ ঝার লাগাতে পরেন, তাহলে তার আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে, সঙ্গে ফুট ল্যাম্প৷ এরপর দেওয়ালে ফ্যামিলি ফটোর ওপর ফোকাস লাইট আর টেক্সচারড ওয়াল হলে অ্যাক্সেন্ট আলো৷

 

 

কমেন্টস