যেভাবে শিশুকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাবেন

প্রকাশঃ অক্টোবর ৩০, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে বা টেলিভিশন দেখলে সবসময় চোখে পড়ে কোথাও না কোথাও তরুণী, কিশোরী বা শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর দিন দিন এই নির্যাতনের হার বেড়েই চলছে উদ্বেগজনক হারে, যার বেশির ভাগ শিকারই হচ্ছে শিশুরা। বাসা বাড়ি, পথ-ঘাট এমনকি স্কুলের মতো স্থানেও শিশুরা বিকৃতরুচির মানুষজন দ্বারা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

শিশু ধর্ষণের বিষয়টা দুঃখজনক। সারা বিশ্বে শিশুরাই বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর এটা করছে তাদের আশপাশের লোকেরাই। এটা অনেক ভয়াবহতার সাক্ষ্য দেয়, কিন্তু মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তব।যৌন নির্যাতনের মতো অনাকাক্ষিত ঘটনায় কোমলমতি শিশুদের আবেগ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

যৌন নির্যাতন বন্ধ করতে সারা বিশ্বে বহুবার সমাজ পরিবর্তনের কথা দাবি করা হয়েছে। তারপরও রেহাই পাচ্ছে না কেউ। আর সমাজের পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন মানুষের মনোভাব, আচরণ ও রুচির পরিবর্তন হবে।

সুতরাং আপনার সন্তানকে যদি নিরাপদ রাখতে চান, তাহলে তাকে যৌন নির্যাতন সম্পর্কে সাবধান ও সচেতন করুন। তাকে বিষয়টি জানান, কি উপায়ে এ ভয়াবহ রক্তচক্ষু থেকে সে নিজেকে বাঁচাবে।

যৌন নির্যাতনের হাত থেকে শিশুরা নিজেকে কিভাবে বাঁচাবে তার কিছু উপায় জেনে নিন-

১। নির্যাতন প্রতিকারের প্রথম পদক্ষেপ বিষয়টি শনাক্তকরণ। নির্যাতনের লক্ষণ স্পষ্ট হলে বাবা-মার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা উচিত। নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণ প্রয়োজন।

২। আরেকটি বিষয় হলো আপনার সন্তানের বয়স কতো। নিশ্চয় ৩-১৫ এর মধ্যে। আপনি তাদের মৌলিক সেক্স নির্যাতনের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা দিতে পারেন শুধুমাত্র। সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলুন যেন সে আপানাকে সব বিষয়ে ভরসা করে। যেকোনো কথা আপনার কাছে খুলে বলতে পারে।

৩। শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। গল্পের ছলে ঘটনা বলে যৌনশিক্ষা দিতে হবে। তাকে এতটুকু বিশ্বাস করাতে হবে আপনি যা বলছেন সব সত্য। এসব তার জীবনেও ঘটতে পারে। যদি সে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়, তাহলে সব কিছু আপনার কাছে খুলে বলতে সে ভয় পাবে না।

৪। শিশুদের আরেকটা বিষয় জানাতে হবে, সেটা হলো ভয় না পেয়ে সবকিছু অবহিত করা। তাদের বোঝাতে হবে ধষর্ণের বিষয়ে তার কোনো দোষ ছিল না।

৫। আপনার সন্তানকে বোঝান এবং নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিতে হবে এটা শেখান। কখনো অপরিচিতদের থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করবে না। স্কুল থেকে বাবা-মা ছাড়া অন্যদের সঙ্গে কখনো যাবে না, এমন কি বাবা-মা যেতে বলেছে দাবি করলেও না, এরকম কথা সন্তানকে বলেন।

৬। তাকে তার শরীরের সংবেদনশীল স্থানগুলো সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে। পশ্চাতদেশ, বুক কিংবা দুই পায়ের মাঝে কেউ যেন হাত না দেয়। বাবা-মা, দাদা-দাদি(তাও প্রয়োজনে) কিংবা ডাক্তার বাদে কেউ যেন হাত না দেয়। দিলে ওখান থেকে চিৎকার দিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে।

৭। আপনার সন্তানকে বুঝিয়ে যৌন নির্যাতনকারীর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে উৎসাহিত করুন। কারণ শিশুরা অনেক সময় অপরাধীর ভয়ে অনেক কিছু গোপন করে এবং অপরাধী এতে প্রশ্রয় পায়। এক্ষেত্রে সন্তানকে বলুন, ঠিক আছে ভয়ের কিছু নেই, পরে কথা বলা যাবে। বিশেষ করে ছোট্ট শিশুর ক্ষেত্রে এমন হয়ে থাকে।
 

 

Advertisement

কমেন্টস