আপনার দক্ষতা-সক্ষমতা বৃদ্ধির ৭ মন্ত্র

প্রকাশঃ জুলাই ২৭, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক-
সাফল্যের জন্য নিজের মানসিকতা যেমন উন্নত করতে হবে তেমন অন্যরা যেন আপনাকে সফল হিসেবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কিছু উপায় রয়েছে, যা আপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

১. তাৎক্ষণিক পছন্দের জন্য- ভুল করুন আপনি যদি চান অন্যরা আপনার প্রেজেন্টেশনটি পছন্দ করুক সেজন্য আপনাকে একটু ভুল করলেই চলবে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, একেবারে নিখুঁত থাকার চেয়ে সামান্য ভুল করা বিষয়কে মানুষ পছন্দ করে। এটি মানুষের মানবিকতা উঠে আসে। অনুশীলন এক্ষেত্রে কী করতে পারেন? কোনো অভিনয়ের সময় আপনি নিশ্চয়ই ভুল করবেন না। কিংবা প্রেজেন্টেশনে ভুল তথ্য দেবেন না। কিন্তু আপনি যদি প্রেজেন্টেশনের শুরুতেই সংক্ষিপ্তভাবে নিজের মজার কোনো ভুলের কথা জানিয়ে দেন তাহলে তা অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণে কার্যকর হবে।

২. ভবিষ্যৎ হলো অভ্যন্তরের চালিকাশক্তি হঠাৎ করে কোনো সাফল্যলাভ করা আপনার চিন্তার চেয়েও সহজ। তবে এজন্য আপনার কল্পনাশক্তিকে বিকশিত করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার দুটি কাজ করতে হবে। এগুলো হলো- ক. অন্য কারো ভূমিকায় নিজেকে কল্পনা করা। খ. দূর থেকে কোনো বিষয় কল্পনা করা। এভাবে আপনার কল্পনাশক্তি বিকশিত করে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মস্তিষ্ককে নিয়োজিত রাখা সম্ভব।

৩. চার স্তরে অনুশীলন আপনার যদি কোনো কাজে দীর্ঘ সময় লাগে তাহলে এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে চারটি স্তরে আপনাকে অনুশীলন করতে হবে। ধরুন আপনার কাজের সময় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। আর এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে আপনার কাজেরও যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে কয়েকটি অনুশীলন করুন। এ অনুশীলনের সময় আপনার মনে মনে যা বলতে হবে- ক. আপনার মনের তাগিদটি বলুন (যেমন আমার ফেসবুকে বসার তাড়া রয়েছে)। খ. আপনার তাড়ার বিষয়টি কাঠামোয় আনুন (যেমন ফেসবুক চেক করলে আমার উদ্বেগ বাড়ে এবং এতে আমার যে কাজ করা উচিত তা করতে সমস্যা হয়।) গ. নতুন কোনো উৎপাদনশীল কাজে মনোনিবেশ করুন এমনভাবে যেন তা আপনার আগ্রহ তৈরি করে (যেমন সহজতম কাজটির মাধ্যমে শুরু করা)। ঘ. আপনার মস্তিষ্ককে বোঝাতে হবে যে, ধীরে কাজ করার প্রক্রিয়াটি আপনার মস্তিষ্কের জন্য একটি মেসেজ এবং এটি খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

৪. অতীত থেকে জীবনের শিক্ষা আমাদের জীবনে বহু স্মৃতি রয়েছে, যা ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নানা কাজ করা যায়। যারা অতীতের নানা বিষয়কে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, তারা সর্বদাই সুখী, স্বাস্থ্যবান ও সফল হয়। এক্ষেত্রে আপনার কী করা উচিত? এক মিনিট সময় নিয়ে অতীতের সফল কোনো ঘটনার কথা মনে করুন। এটি হতে পারে গতকালের ঘটনা, গত সপ্তাহের ঘটনা কিংবা দুই ঘণ্টা আগের ঘটনা। ইতিবাচক দৃষ্টিতে সামান্য চিন্তাই আপনার মনোজগতে বড় পরিবর্তন আনতে পারবে।

৫. হাসুন হাসি শুধু মুখের একটি অভিব্যক্তি নয়, এটি আপনার সুখ ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠিও। এক মিনিট সময় নিয়ে হাসলে তা আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। আর হাসি শুধু আপনার নিজেকে নয়, আপনার আশপাশের বহু মানুষকেই প্রভাবিত করতে পারে। তাই গম্ভীর হয়ে না থেকে একটু হেসে নিন।

৬. প্রকৃতির আশ্রয় নিন গাছপালা মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্মৃতিশক্তি ভালো করতে কিংবা মনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গাছপালার কোনো তুলনা হয় না। মাত্র এক মিনিট কোনো পার্কের মাঝে শান্ত মনে হাঁটলেই এ উপকার পাওয়া সম্ভব।

৭. অনুশীলনে হ্যাঁ বলুন আপনি যদি চান তাহলে সহজেই আপনার ইচ্ছাশক্তিকে বাড়িয়ে নিতে পারেন সামান্য কিছু অনুশীলনের মাধ্যমে। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন আপনার ইচ্ছা। আপনার দেহের মাংসপেশি যেমন অনুশীলনের মাধ্যমে সুগঠিত করা সম্ভব, তেমন ইচ্ছাকেও সামান্য অনুশীলনে সুগঠিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনার অনুশীলনকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Advertisement

কমেন্টস