নতুন আইনে ১২ ফিলিস্তিনিকে তাড়াবে ইসরায়েল

প্রকাশঃ মার্চ ২১, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সম্প্রতি প্রণীত হওয়া এক বিতর্কিত আইনের আওতায় জেরুজালেমে ১২ ফিলিস্তিনির বসবাসের অধিকার বাতিল করতে যাচ্ছে ইসরায়েল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাদের বসবাসের অধিকার বাতিল করার ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েহ দেরি। জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ রেখে গত ৭ মার্চ নতুন আইন পাস করে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট।

নতুন আইনের আওতায় ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকার না করলে যেকোনও ফিলিস্তিনির জেরুজালেমে বসবাসের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশপাশি মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ কাউকে মিথ্যা তথ্যদাতা কিংবা অপরাধকর্মে জড়িত মনে করলেই পাসকৃত আইন অনুযায়ী তার বসবাসের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাৎক্ষণিকভাবে নতুন আইনটি নিয়ে ক্ষোভ জানায় ফিলিস্তিনিরা।

তাদের দাবি, জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার অনৈতিকভাবে কেড়ে নেওয়া এবং নিজেদের শহরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের অধিকার-বঞ্চিত করার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল সরকার আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করছে।

নতুন আইন পাসের দুই সপ্তাহের মাথায় ১২ জন ফিলিস্তিনির জেরুজালেমে বসবাসের অধিকার বাতিলের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েহ দেরি। ওই ১২ জনের মধ্যে ৪ জন্য ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে জড়িত।

আগেও তাদের বসবাসের অদিকার বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ সালে এ চার ব্যক্তি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আইনপ্রণেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তখনকার ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রনি বার তাদের বসবাসের অধিকার বাতিল করেছিলেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এ চার ব্যক্তি ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকার করেন না’ এবং তারা বিদেশি পার্লামেন্ট ও হামাসের সদস্য।

১০ বছরের আইনি লড়াই শেষে ২০১৭ সালে ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করে। রুলে বলা হয়, ইসরায়েল ‘রাষ্ট্রকে অস্বীকার’ করার জন্য তাদের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এখতিয়ার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নেই। এরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে বিতর্কিত আইনটি পাসের উদ্যোগ নেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ৪ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনির বসবাস। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী হিসেবে ইসরায়েল দাবি করে আসলেও সেখানে জন্ম নেওয়া এবং বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব নেই।

শহরটিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্সি’ আইডি কার্ড এবং অস্থায়ীভাবে জর্ডানের পাসপোর্ট দেওয়া আছে। তাদের সঙ্গে বিদেশি অভিবাসীদের মতো আচরণ করা থাকে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ নিয়ে এখনও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। আর তার মধ্যেই জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন আইন পাস করে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে উদ্ধৃদ করে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, চার ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট সদস্যের পাশাপাশি জেরুজালেমে থাকা অন্য ফিলিস্তিনিদেরও বসবাসের অধিকার বাতিলের কথা ভাবছে ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কমেন্টস