‘জয় মাতা দি’ বলতে যুবককে মারধর

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

এক দলিত যুবককে নির্যাতন করে ‘জয় মাতা দি’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেছেন তিন হামলাকারী। নির্যাতনের সময় ওই যুবক হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েও রেহাই পাননি।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মুজাফ্ফরনগরে গত রোববার এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

পরে যুবককে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল যায়। নিগ্রহের ঘটনা ভিডিও করেন হামলাকারীদের আরেক সহযোগী। এ ঘটনায় পুলিশ এফআইআর করে অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে। নির্যাতনের শিকার ২৭ বছরের ওই যুবক মুজফ্ফরনগরের বাসিন্দা।

সিনিয়র পুলিশ সুপার অনন্ত দেও জানান, এ ঘটনায় পুরকাজি থানায় কঠোর ধারায় এফআইআর করা হয়েছে। পুলিশ আক্রান্ত যুবক ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছে। অভিযুক্ত হিসেবে ওই এলাকারই তিন-চারজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

ভিডিওতে দেখা যায়, কালো হেলমেট পরে এক ব্যক্তি মাটিতে পড়ে রয়েছেন। তাকে মারধর করছেন, লাথি মারছেন তিন ব্যক্তি। আরেকজন নির্যাতনের ঘটনা ভিডিও করছেন। নির্যাতিত যুবক হাতজোড় করে ক্ষমা চান। কিন্তু মারধর তো থামেনি। বরং তাকে ‘জয় মাতা দি’ বলতে বলা হয়।

ক্লিপটিতে এক হামলাকারী অন্যজনকে বলছে, এ ঘটনা ভিডিও করে ভাইরাল করে দিতে। এদের মধ্যে একজন ওই নির্যাতিত যুবককে বলেন, ‘আমরা তোমাদের আম্বেদকরের সমালোচনা করি না, করি কি? তা হলে তোমরা আমাদের সমালোচনা কর কেন?’

জেলা পুলিশ সুপার ওমবীর সিংহ বলেন, অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চলছে। তাদের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। খুব শীগগির গ্রেফতার করা হবে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘এক মাসের আগের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। তখনও সামাজিকমাধ্যমে ভিডিও টেপ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ভিডিও টেপে দেবদেবীকে উপহাস করা হয়েছিল।’

উল্লেখ্য, ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানটি বর্তমানে ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু উঠেছে। সম্প্রতি এই স্লোগান না দেওয়ায় দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি রাজ্যসভা থেকেও বহিষ্কৃত হন এক মুসলিম বিধায়ক।

কমেন্টস