স্বামী নয়, ষাঁড়কেই বেছে নিলেন এই নারী!

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৬, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ভারতের তামিলনাড়ুর সেলভারানি কানাগারাসু নমক এর নারীর বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই করলেও বিয়ে করেননি এখনো। তিনি একটি ষাঁড়ের পেছনে সারাক্ষণ সময় দেন। বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম কানাগারাসুর এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের পেছনের কারণটা কী জানার চেষ্টা করছে। বেশ তোলপারও তৈরি হয় এ নিয়ে।।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা জায়, কানাগারাসুর পরিবার অনেক আগে থেকেই জাল্লিকাটু (ষাঁড়ের লড়াই) খেলার সঙ্গে জড়িত। তাই কিশোরী বয়সেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বাবা ও দাদার মতোই জাল্লিকাটু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন এবং ষাঁড়ের পরিচর্যা চালিয়ে যাবেন।

বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী কানাগারাসু দেখাশোনা করেন রামু নামের ১৮ বছরের একটি ষাঁড়কে। এ পর্যন্ত রামু পাঁচ থেকে সাতটি জাল্লিকাটু উৎসবে জিতে এনেছে স্বর্ণের মূদ্রা ও শাড়ি।

অন্যদিকে, বিয়ে সম্পর্কে কানাগারাসু জানান, তার বিয়ে নিয়ে শুরুর দিকে পরিবারে হতাশ থাকলেও এখন তারা এ পরিস্থিতিকে অনেকটাই মেনে নিয়েছে।

রামুর খাদ্য তালিকায় থাকে নারকেল, খেজুর, কলা, তৈলাক্ত এক ধরনের পিঠা, ভাত ও গম। এ ছাড়া রামু শরীরচর্চাও করে। এখন পর্যন্ত ষাঁড়টির আয় এক লাখ রুপি।

কানাগারাসু এ বিষয়ে জানান, রামু তার ছেলের মতো। জাল্লিকাটু লড়াই জিতে রামু তার পরিবারের সম্মান বাঁচিয়েছে এবং তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। জাল্লিকাটু খেলা শুরুর আগে রামু বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে বছরের শুরুতে জাল্লিকাটু উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষেতের ধান তোলার উৎসবকে কেন্দ্র করেই জানুয়ারিতে এই ষাঁড়ের লড়াই  হয়ে থাকে। এ অনুষ্ঠানে ষাঁড়ের শিংয়ে পুরস্কার বাঁধা থাকে এবং পুরুষরা ওই ষাঁড়কে তাড়া করে শিং থেকে পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়। জাল্লিকাটু ভারতের প্রাচীনতম খেলাগুলোর মধ্যে একটি। এই খেলায় বিভিন্ন সময় বহু মানুষ হতাহত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার। তবে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

কমেন্টস