বিবস্ত্র শরীরে তেল মালিশ করাত ধর্মগুরু, তবুও আশ্রম ছাড়তে নারাজ তরুণীরা

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৮, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও বলপূর্বক নারীদের আটকে রাখার অভিযোগে মামলার তদন্তে নামে সিবিআই। এরপরই ভারত জুড়ে ওই ধর্মগুরুর ছড়িয়ে থাকা বিশাল নারী পাচার নেটওয়ার্কের শিকড়ের খোঁজে নামে পুলিশ।

রবিবার দেশটির পুলিশ জানায় আশ্রমে অভিযান চালিয়ে ৭০ জনেরও বেশি তরুণীকে উদ্ধার করেছে।  কিন্তু কিছু তরুণী আশ্রম ছাড়তে চাইছেন না!

গত ২৪ ডিসেম্বর দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের একাধিক আশ্রমে অভিযান চালিয়ে পুলিশ স্বঘোষিত ধর্মগুরু বীরেন্দ্রর বেশ কয়েকটি আশ্রম থেকে ৪৭ জন নারী ও ৬ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করে। বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও বলপূর্বক নারীদের আটকে রাখার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে সিবিআই। এরপরই ভরতজুড়ে ওই ধর্মগুরুর ছড়িয়ে থাকা বিশাল নারী পাচার নেটওয়ার্কের শিকড়ের খোঁজে নামে পুলিশ।

শনিবার রাজস্থানের সিরোহি জেলার আবু রোডে এরকমই এক আশ্রমে হানা দেন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের সদস্যরা। সেখানে হানা দিয়ে পুলিশকর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ। আশ্রমের ভিতর অন্তত ৭২ জন যুবতী দিব্যি রয়েছেন। আধ্যাত্মিক কাজকর্মের জন্যই স্বেচ্ছায় আশ্রমে রয়েছেন তারা, দাবি ওই যুবতীদের। কেউই বাড়ি ফিরতে চান না। বরং পুলিশকে চলে যেতে বলেন।

রোড পুলিশ স্টেশনের স্টেশন হাউস অফিসার মিঠু লাল পিটিআইকে জানিয়েছেন, তাঁরা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না কোন জাদুবলে ওই মহিলারা মুখ খুলছেন না। তাদের কোন মাদক দেওয়া হয় কি না সেটাও পুলিশ দেখছে। আশ্রমের ভারপ্রাপ্তদের কাছে ওই মহিলাদের পরিচয়পত্র চাওয়া হলেও মেলেনি। পুরোটাই পুলিশের কাছে সন্দেহজনক ঠেকছে।

রাম রহিমের মতোই বীরেন্দ্রর কীর্তি প্রকাশ্যে আসে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দেখা যায়, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে বীরেন্দ্রর বহু আশ্রমেই কিশোরী ও যুবতীদের বলপূর্বক আটকে রেখে যৌনদাসী বানিয়ে রাখা হয়। মহিলাদের দেহব্যবসায় নামিয়ে ওই অভিযুক্ত ধর্মগুরু প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছে। শুরুর দিকে তার মতলব কেউ বুঝতে পারত না। নিজেকে ধর্মগুরু বলেই পরিচয় দিত সে। আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে আশ্রম খুলে সাধারণ মানুষকে আশ্রমের দিকে টেনে আনত সে। বহু অভিভাবকই তাঁদের কন্যাদের এই আশ্রমে রেখে আসতেন। ছুটির সময় ধর্মশিক্ষা পাবে মেয়েরা, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল অভিভাবকদের। কিন্তু সেই ফাঁদ পেতেই নাবালিকাদের ভোগ করত ওই স্বঘোষিত ধর্মগুরু।

অভিযোগ, স্ট্যাম্প পেপারে সে লিখিয়ে নিত যে নাবালিকারা স্বেচ্ছায় আশ্রমে এসেছে। কেউ তাদের কোন রকম জোর করেনি। এরপরই কুকর্মে লাগানো হত তাদের। অনুগামীদের মেয়েদের আশ্রমে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও জোর খাটাত ওই বাবা। তারপর চলত অবাধে যৌনাচার।

আশ্রমের এক ভক্ত জানাচ্ছেন, নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়ত বাবা। তারপর নাবালিকাদের তার শরীরে তেল মালিশ করার নির্দেশ দেওয়া হত। এখন প্রশ্ন উঠছে, এত অত্যাচার হলেও কেন আশ্রম ছাড়তে চাইছেন না নারীরা? দেশটির পুলিশ ও সিবিআই পুরো ঘটনার তদন্ত করে দেখছে বলে জানা যায়। সংবাদ প্রতিদিন।

কমেন্টস