লেবাননের খ্রিষ্টান ধর্মগুরুকে সৌদি বাদশার উষ্ণ অভ্যর্থনা

প্রকাশঃ নভেম্বর ১৪, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক:

হুট করেই সৌদি আরব সফর করলেন লেবাননের খ্রিষ্টান ম্যারোনাইট ধর্মগুরু বাশারা আল-রাই। লেবাননের সঙ্গে সৌদি আরবের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টির পরপরই ধর্মগুরুর এই সফর বিস্ময় ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) হঠাৎ করেই সৌদি যান তিনি। দেখা করেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির সঙ্গে।

মাত্র দেড় সপ্তাহ আগে সৌদি এসে পদত্যাগ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। এখনো তিনি সৌদিতেই আছেন। পদত্যাগের পর থেকে ১০ দিন গোপন থেকে সোমবার টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের ইচ্ছায় ও নিজের নিরাপত্তার জন্য পদত্যাগ করেছেন।’

সাদ হারিরির পদত্যাগ যখন অসংখ্য প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল তখন বাশারা আল-রাইয়ের হঠাৎ সৌদি সফরও অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। প্রথমত,সৌদি আরবে গিয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ কি এটাই প্রমাণ করে না যে সৌদি লেবাননকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। এ তো এক প্রকার আগ্রাসনই। কারণ, এমন তো আর কখনো হয়নি যে এক দেশের প্রধানমন্ত্রী আরেক দেশে গিয়ে পদত্যাগ করেছে।

অনেকের ধারণা, সৌদি আরব জোর করেই হারিরিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করিয়েছে।কারণ দক্ষিণ লেবানন নিয়ন্ত্রণকারী হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে চায় সৌদি। হিজবুল্লাহ ইরানের শক্তিশালী মিত্র, আর ইসরালের গুরুতর শত্রু। লেবাননের খ্রিস্টানরাও চায় হিজবুল্লাহ নিপাত যাক।

কিন্তু, ইউরোপীয় খ্রিস্টান বা আমেরিকা চায় না হিজবুল্লাহ নিধনের ছুতোয় ইয়েমেনের মতো সৌদি লেবাননেও সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালাক। যা করার করতে হবে হয়তো কূটনৈতিকভাবেই। অনেক হিসেব-নিকেশ আছে এর পেছনে।
তাই লেবাননের খ্রিষ্টান ধর্মগুরুর আকস্মিক সৌদি সফরকে নিছক বিনোদন কিংবা আনুষ্ঠানিক ভ্রমণ হিসেবে দেখার উপায় নেই। খ্রিষ্টান ধর্মগুরুদেরর এমন সৌদি ভ্রমণের নজিরও খুব বেশি নেই।

কমেন্টস