পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছেঃ সু চি

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

মিয়ানমারের সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করছে মিয়ানমার সরকার। তার ওই ভাষণে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ইস্যু ছাড়াও দেশবাসীকে এক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে দেশটির নেত্রি অং সান সুচি এসব কথা বলেন।

এসময় রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাখাইনে সকল আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সহায়তার বিষয় দেখভালের জন্যে তিনি একটি কমিটি গঠন করেছেন।

বার্তাসংস্থা এপির খবরে বলা হয় সুচি তার ভাষণে স্বীকার করেন, তার দেশ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার শিকার হচ্ছে। এই সমস্যা সামলাতে তিনি দেশবাসীকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে কাদেরকে ফেরত নেয়া হবে। এ বিশোয়ে বিশেষ কিছু জানান নি তিনি।

সুচি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যেসব শরনার্থী ফেরত যেতে ইচ্ছুক তাদের আবাসন সম্পর্কিত নথিপত্র দেখাতে হবে।

কিন্তু বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছেই এরকম নথিপত্র নেই। মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পড় বেশির ভাগ রোহিঙ্গাই তারাহুড়ো করে পালিয়ে আসার সময় তা ফেলে আসেছেন।

মিয়ানমারের অধিকাংশ বাসিন্দাই বৌদ্ধ ধর্মালম্বী। রোহিঙ্গাদের তারা মিয়ানমারের আদি কোন জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। এমনকি তাদেরকে রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না তারা। তাদের ভাষ্যমতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ বাঙ্গালি অভিবাসী। রোহিঙ্গাদের ডাকাও হয় বাঙালি বলে।

সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাপ্রধান এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভ’মিতে ফিরে যাচ্ছে। এখানে তিনি রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে উল্লেখ করেন। আর মাতৃভ’মি বলতে বাংলাদেশের দিকে ইঙ্গিত করেন। এমনকি সুচিও তার ভাষণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের ব্যবহার করেন নি। যদিও অন্যান্য ছোট জাতিগোষ্ঠীগুলোকে তাদের নিজ নিজ নাম ধরেই উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের দেয়া তথ্য অনুসারে, ২৫শে আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৫ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।

Advertisement

কমেন্টস