রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে তাড়ানোর পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সুচি!

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের অত্যাচার ও বর্বরতার মাধ্যমে চার লাখ রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করার পর আগামী সপ্তাহে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচি। বুধবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র যও থে এ তথ্য জানিয়েছেন।

২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নজিরবিহীন নির্যাতন চললেও সেনা নিপীড়নের ব্যাপারে নিশ্চুপ মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সুচি। পুরো ঘটনার জন্য তিনি দায় চাপিয়ে আসছেন সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ওপর।

১৯ সেপ্টেম্বরের ভাষণে সুচি জাতীয় ঐক্য ও শান্তির ডাক দেবেন। একই সঙ্গে সুচি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার কথা সুচির। তবে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে এ অধিবেশনে যাচ্ছেন না তিনি।

এদিকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা কী কারণে মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়েছে, সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন অং সান সুচি।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। সেখান থেকে পালিয়ে আসার রোহিঙ্গাদের দাবি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বিচারে গ্রামের পর গ্রামে হামলা-নির্যাতন চালাচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭০ জন ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’, ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দুজন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৪ সাধারণ নাগরিক।

মিয়ানমার সরকারের আরো দাবি, ‘বিদ্রোহী সন্ত্রাসীরা’ এখন পর্যন্ত রাখাইনের প্রায় দুই হাজার ৬০০ বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এখনো রাখাইন রাজ্যে থাকা মুসলিমদের মধ্যে মাইকে প্রচার চালাচ্ছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Advertisement

কমেন্টস