‘জনসন এন্ড জনসনের পাউডার ক্যান্সারের জন্য দায়ী’

প্রকাশঃ আগস্ট ২৪, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

জনসন এন্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহারে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বিস্তৃত হয়েছে- এক নারীর এমন অভিযোগের বিচারে বহুজাতিক কোম্পানিটিকে ৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত।

লস এঞ্জেলসের সর্বোচ্চ আদালতের জুরিরা গত সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ইভা ইচেভেরিয়ার পক্ষে রায় দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকতে পারে- গ্রাহকদের এ বিষয়ক সতর্কতা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় জনসন এন্ড জনসনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মেট্রো জানায়, লস এঞ্জেলেসে বসবাসকারী ইভা একেভেরিয়া’র জনসন এন্ড জনসনের বিরুদ্ধে করা কেসটা নিয়ে সামনে এগিয়েছিলেন এবং এর ফল স্বরূপ ইউএস এর উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে একটি বড় অংকের মূল্য তাকে প্রদান করা হয়। জনসন এন্ড জনসনের বিরুদ্ধে ইভা অভিযোগ আনেন যে, এই প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রেতাদের “ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের ফলে সম্ভাব্য ক্যান্সারের ঝুঁকি” সম্পর্কে সঠিকভাবে জানায়নি।

ইভা জনসন এন্ড জনসন প্রতিষ্ঠানের বেবি পাউডার ১৯৫০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন ব্যবহার করে আসছেন। আইনের কাগজপত্র অনুসারে, ২০০৭ সালে এসে তার ওভারিয়ান ক্যান্সার ধরা পরে। ইভা তার মামলায় জানান, তার ওভারিয়ান ক্যান্সার শরীরে বাসা বাঁধার কারণ অতিমাত্রায় এই কোম্পানির ট্যালকম পাউডার ব্যবহার।

ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত মৃত্যুপথযাত্রী মিসেস একেভেরিয়া জানান, তিনি পুরো দেশের সকল নারীদের সাহায্য করতে চান যারা কিনা বিগত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে জনসন এন্ড জনসণের পণ্য ব্যবহার করছেন।

ইভা আরো জানান যে, তিনি কারোর সহমর্মিতা চান না। তিনি শুধু সেই সকল নারীদের কাছে বার্তা পৌছাতে চান যাদের সাহায্য প্রয়োজন।

ইভা’র আইনজীবী মার্ক রবিনসন বলেন, তার মক্কেল হসপিটালে ক্যান্সার চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইচ্ছা ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ যেন জনসন এন্ড জনসনকে নির্দেশ দেন তাদের পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের বাড়তিভাবে সতর্কতা মূলক বার্তা প্রদান করা হয়।

রবিনসন জানান, বিচার বিভাগ কম্পেন্সেটরি ড্যামেজ (পূরক খেসারত) ৬৮ মিলিয়ন ডলার এবং ৩৪০ মিলিয়ন ডলার পিউনিটিভ ড্যামেজ (শাস্তিমূলক খেসারত) ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিয়েছে। এই কেসে রবিনসন জানান, বিচার বিভাগে এমন কিছু গোপন তথ্য-উপাত্ত এবং নথীপত্র প্রদান করা হয়  যা থেকে জানা যায় যে এই প্রতিষ্ঠান বহু দশক ধরেই ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকির বিষয়ে জানতেন!

গত তিরিশ বছর ধরে জনসন এন্ড জনসন অনেক হুশিয়ারমূলক সংকেত পেয়েছে কিন্তু সে সকল নারীদের সচেতন করতে পারেনি যারা কিনা তাদের পণ্য ব্যবহার করে আসছিল।

জনসন এন্ড জনসনের মূখপাত্র ক্যারোল গুডরীচ তার এক বিবৃতিতে জানান, এই প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগের নেওয়ার সিদ্ধান্তের উপর আপীল করবে। তিনি আরো বলেন, যে সকল মহিলারা ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তাদেরকে কোম্পানি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখিয়েছেন, কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটা প্রমাণিত যে এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

সেইন্ট লুইস, মিসৌরি থেকে মে মাসে রায় হয় যে ভার্জিনিয়াবাসী একজন মহিলাকে ১১০.৫ মিলিয়ন ডলার উপহারস্বরুপ দেওয়া হয়, যিনি ২০১২ সালে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তিনিও অভিযোগ করেছিলেন যে, তার অসুস্থতার মূল কারণ হলো প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা।

এছাড়াও স্যান্ট লুইস মার্চে একজন তেন্নেসি মহিলার আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিলেন যিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, তার ওভারিয়ান এবং জরায়ুসংক্রান্ত ক্যান্সারের জন্য ট্যালকম পাউডার দায়ী। এছাড়া আরো দুইটি একই ধরণের কেস বিচার বিভাগ থেকে বাতিল করে দেওয়া হয় কারণ বাদী পক্ষের উকলরা উপযুক্ত প্রমাণসহ অভারিয়ান ক্যান্সারের কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়া প্রায় ১০০০ ভিন্ন মানুষ একই ধরণের মামলা করেছেন এর মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ কন বা বেশি পরিমাণে অর্থ পেয়েছেন মামলা জিতে।

Advertisement

কমেন্টস