মার্কিন হামলা মোকাবেলায় উ.কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে ৩৫ লাখ মানুষ

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবেলা করতে কমপক্ষে ৩৫ লাখ মানুষ দেশটির সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়েছে বলছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র রোডং সিনমুনে এ খবর জানিয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে হাজার হাজারবার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার সব মানুষ জেগে উঠছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সাথে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে ওঠার পরপরই উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে ৩৫ লাখ মানুষ নাম লিখিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীতে যারা নাম লিখিয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য এবং ছাত্ররা রয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ লিখেছে, ‘‘ট্রাম্পের মতো ব্যক্তির সাথে সফল আলোচনা সম্ভব নয়৷ শুধুমাত্র কঠোর বলপ্রয়োগই তার ক্ষেত্রে কাজ করবে৷’’

পরমাণু কার্যক্রমের কারণে জাতিসঙ্ঘ উত্তর কোরিয়ার উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশটি ওয়াশিংটনকে ‘মারাত্মক শিক্ষা’ দেয়ার হুমকি দেয়৷ এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়া নতুন করে অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে আরো হুমকি দিলে সে দেশের উপর এমন মারাত্মক হামলা চালানো হবে, যা বিশ্বে কেউ কখনো দেখেনি৷ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া গুয়ামের উপর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে৷

যদিও চীন ও উত্তর কোরিয়ার মাঝে বরাবরই খুব ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে, সম্প্রতি এই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে৷ এর প্রমাণ হয়, জিলিন প্রদেশের দক্ষিণ সীমান্তে উত্তর কোরিয়ানদের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন৷ শুধু পাসপোর্টই নয়, পর্যটকদের সব ডিভাইস ও লাগেজ জমা রাখতে হয় কর্তৃপক্ষের কাছে।

উত্তর কোরিয়ার হুমকির পর বিশ্লেষকরা উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে ভাবছেন৷ কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় কোনো এক পক্ষের নেয়া পদক্ষেপ যদি অন্যপক্ষ সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে অনেক পরমাণু অস্ত্র থাকলেও পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেজন্য ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে হটলাইন, স্যাটেলাইট সহ নানান ব্যবস্থা চালু আছে৷ এমনকি ভারত ও পাকিস্তানও প্রতিবছর জানুয়ারিতে যার যার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা এবং সেগুলো কোথায় আছে তা একে অন্যকে জানিয়ে থাকে৷ এর মাধ্যমে কোনো পক্ষ যেন ভুল করে কোনো পরমাণু স্থাপনায় হামলা না চালায় সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে৷

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চিন্তিত বিশ্লেষকরা৷ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একজন উপদেষ্টা জন ওল্ফসথাল রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘আমাদের মধ্যে (দুই দেশের মধ্যে) কিছু অ্যাডহক ও অ্যানালগ উপায়ে যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে৷ কিন্তু সঙ্কট সমাধানে কার্যকর হতে পারে এমন পরীক্ষিত কোনো মাধ্যম নেই৷’’

১৮৯৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ গুয়াম৷ তবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে এটি অনেক দূরে অবস্থিত৷ তবে জাপান, কোরিয়া, ফিলিপাইন্স থেকে এটি কাছে৷ পিয়ংইয়ং থেকে গুয়ামের দূরত্ব প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার৷ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকরা গুয়ামে বেড়াতে যান৷

গুয়ামে জন্ম নেয়া শিশুরা মার্কিন নাগরিক হলেও তাদের ভোটাধিকার নেই।

গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানঘাঁটি রয়েছে৷ প্রায় ছয় হাজার মেরিন সেনা সেখানে মোতায়েন রয়েছে৷ পঞ্চাশের দশকে কোরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র গুয়াম ঘাঁটি ব্যবহার করেছে৷ এছাড়া ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও গুয়ামের বিমানঘাঁটি বহুল ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে এখনি ততটা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।

কমেন্টস