হাজার সেনার বিনিময়ে ইরাক যুদ্ধে জিতেছে আমেরিকা, ফলাফল ভোগ করছে ইরান

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সম্প্রতি মসুল অধিগ্রহনের মাধ্যমে ইরাকের মাটি থেকে আইএস’র ঘাটি উৎখাত করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি। এ ঘোষণার মাধ্যমে বলা যায় ইরাকে আপাত বিজয় হয়েছে মার্কিন বাহিনীর। এ যুদ্ধে জয়ী হতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার সেনার প্রাণহানী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু বিজয়ের হাসিটি এখন কার মুখে? এই প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

পত্রিকাটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইএসকে হটানোর মাধ্যমে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় সূচিত হলেও এর স্বাদ গ্রহণ করছে আসলে ইরান। ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দেশটিই আবার যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুর তালিকায়।

বর্তমানে ইরাকের যেকোন শহরের কোন বাজারে গেলে দেখা যাবে প্রত্যেক দোকানের তাকগুলো ভরে আছে ইরানি পণ্যে। দেশটির দুগ্ধ, দই, মুরগী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যই এখন ইরান নির্ভর। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও রয়েছে ইরানি আধিপত্য। একটি নতুন ভবন তৈরী হচ্ছে? সেখানেও দেখা যাবে ইট, বালি, সিমেন্ট থেকে শুরু করে সব পণ্যই ইরান থেকে আমদানী করা।

এমনকি কোন বিষন্ন ইরাকি যুবকরা যদি নেশায় ডুবে যেতে চায়, তার হাতেও চলে আসবে ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করে আসা নেশাদ্রব্য। এই সব উদাহরণের মাধ্যমে ইরাকে ইরানি আধিপত্যের কিয়দংশই বলা হয়েছে।

ইরানি অর্থায়নে ইরাকজুড়ে অবস্থান করা অস্ত্রধারী গোষ্ঠীরাও ইরানের আধিপত্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সক্রিয়। ইরাকের মন্ত্রীসভা থেকে শুরু করে উচ্চ পদগুলো এখন ইরানি কলকাঠিতেই নড়ে।

ইরাকের সাবেক অর্থমন্ত্রী হোশিয়ার জেবারি বলেন, ‘দেশে ইরানি স্বার্থই এখন নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়।’ গত বছর তাকে মন্ত্রীসভা থেকে সরে যেতে হয়। জানা গেছে, জেবারি ইরান বিরোধী এবং মার্কিন ঘেঁষা।

ইরাকের মাটিতে আমেরিকা যখন আইএস হঠাতে ব্যস্ত ইরান তখন মরুভূমি পাড়ি দেওয়া ১৫ মাইল দীর্ঘ একটি ধূলিময় পথের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। ইরাকের দিয়ালা রাজ্য দিয়ে রাস্তাটি প্রবেশ করেছে। ইরানি পণ্য দিয়ে ইরাকের বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে এখন ওই রাস্তাটি। এছাড়াও ইরাকে ক্ষমতার এক শক্তিশালী জাল বুনেছে ইরান। বিগত বছরগুলোতে ইরাকে ঢুকেছে অসংখ্য ইরানি অস্ত্রও। এসব অস্ত্র ইরানের ভাষায় কথা বলে।

ইরাকের সাবেক অর্থমন্ত্রী হোশিয়ার জেবারি বলেন, ‘দেশে ইরানি স্বার্থই এখন নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়।’ গত বছর তাকে মন্ত্রীসভা থেকে সরে যেতে হয়। জানা গেছে, জেবারি ইরান বিরোধী এবং মার্কিন ঘেঁষা।

প্রসঙ্গত, ১৪ বছর আগে ২০০৩ সালে ইরাকে প্রথম আক্রমণ করে আমেরিকা। সে বছরই দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে বন্দী করতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী। পরবর্তীতে তাকে বিচারের আওতায় এনে ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাদ্দামের মৃত্যুর পরই ইরাক যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি যুক্তরাষ্ট্রের। বরং ঠিক তখন থেকেই শুরু হয় সত্যিকারের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে আইএসএস।

Advertisement

কমেন্টস