উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারবে না পরমাণু বোমা বহনকারী ‘মার্কিন থাড’!

প্রকাশঃ মে ১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মার্কিন বহুল আলোচিত অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অ্যাল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা ‘থাড’ দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়ত সম্ভব হবে না। এ ছাড়া, ‘থাড’ দিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলকে রক্ষা করাও হয়ত সম্ভব হবে না।

আমেরিকার বিজ্ঞানী এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার ভাষায় এ আশংকা ব্যক্ত করেছেন।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিফেন্স নিউজের একটি নিবন্ধে ‘থাড’য়ের এ সব সীমাবন্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘থাড’ ব্যবস্থা২০০ কিলোমিটারের মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে বলে আমেরিকা দাবি করছে। খবর পার্স টুডে।

উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া এর তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে এটি দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা হয়।  সিউলের ১২৫ মাইল দক্ষিণে এ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। ভারি অস্ত্রে সজ্জিত সীমান্ত থেকে এটি এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।

বৃহত্তম সিউলে আড়াই কোটি মানুষ বসবাস করেন। ফলে সিউলের দিকে লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হলে তা ঠেকানো হয়ত সম্ভব হবে না এবং এ নগরীর জন্য বাড়তি কোনো প্রতিরক্ষা দেবে না ‘থাড।’

এ ছাড়া, ক্ষুদ্রপাল্লার এক ঝাঁক রকেট ছুঁড়লে তা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে ‘থাড।’ ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্ট গ্লোবাল সিকিউরিটি প্রোগ্রামের সহ-পরিচালক ডেভিড রাইট এ কথা বলেছেন।

শীতল যুদ্ধের আমলের তৈরি সব কিছুর মতো ‘থাড’কে ঘিরেও অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে নতুন করে এর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এরপর মাত্র ১২ দফা সফল ভাবে ‘থাডের’ পরীক্ষা হয়েছে। হার্ভাড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অ্যাট্রোফিজিসিস্ট জনাথন ম্যাকডোনাল্ড এ কথা জানান।

তিনি আরো বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সফল হওয়া আর সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রে সঠিক ভাবে কাজ করা এক কথা নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো আগাম হুঁশিয়ারি ছাড়াই বা নামমাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে একযোগে ছোঁড়া হতে পারে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র। পরীক্ষা কেন্দ্রে সফল ভাবে কাজ করলেও অনেক সময় তা যুদ্ধক্ষেত্রে সঠিক ভাবে কাজ করে না বলে জানান তিনি।

এছাড়া, ‘থাড’এর সক্ষমতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাতে কারিগরি দিক থেকে ভুল রয়েছে বলে জানান এমআইটির অধ্যাপক থিউডোর পোস্টোল। তিনি বলেন, হামলাকারী ক্ষেপণাস্ত্র ঘুরপাক খেলে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গেলে তা আর ঠেকাতে পারবে না ‘থাড।’

কমেন্টস