আরেক দফা বেঁচে গেলেন নওয়াজ শরিফ

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলায় বিভক্ত রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নওয়াজের পরিবার কীভাবে অর্থ কাতারে পাঠিয়েছে, তা তদন্ত করতে যৌথ তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম বা জেআইটি) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ডনের খবরে জানা যায়, অ্যাপেক্স কোর্টের বাইরে আজ বৃহস্পতিবার রায়ের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সাংবাদিকদের জানান, পাঁচজন বিচারপতির বেঞ্চে ৩-২–এ রায় বিভক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে পানামা কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তের জন্য যে কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন, আদালতও সেই রায় দিয়েছেন।

খাজা আসিফ আরও বলেন, ‘আমরা সব ধরনের তদন্তের জন্য প্রস্তুত। আজ আদালতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে বিরোধীদের দেওয়া তথ্য–প্রমাণ যথেষ্ট নয়। আমরা সফল হয়েছি।’

পাঁচ বিচারপতি আসিফ সায়্যিদ খোসা, গুলজার আহমেদ, এজাজ আফজাল খান, আজমত সায়্যিদ ও ইজাজুল আহসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। তাঁদের মধ্যে বিচারপতি খোসা ও গুলজার নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। বাকি তিন বিচারপতি জেআইটি গঠনের পক্ষে রায় দেন।

গত বছর বিতর্কিত পানামা পেপারস ফাঁস হয়। পানামাভিত্তিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটির বেশি নথি ফাঁস হয়। এসব নথিতে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং থেকে শুরু করে বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসে। ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কীভাবে, কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, তা বেরিয়ে আসে এসব তথ্যে।

ফাঁস হওয়া নথিতে নওয়াজের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনজন মরিয়ম, হাসান ও হোসেনের নাম এসেছে। নওয়াজের সন্তানেরা মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন অফশোর কোম্পানির মালিকানার অংশীদার। সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

নওয়াজ শরিফের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) দাবি, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বৈধ পথে পারিবারিক ব্যবসা থেকেই এ সম্পদ অর্জিত হয়েছে।

কমেন্টস