গত বছরে প্রতিদিনে গড়ে তিনজনেরও বেশি ধর্ষণের শিকার

প্রকাশঃ মে ১৪, ২০১৮

মেরিনা মিতু।।

প্রতিদিনে গড়ে তিনজনেরও বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন গতবছরে (২০১৭ সাল)। চলতি বছরেও অব্যাহত রয়েছে এ ধারা। শিশুধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা ভয়াবহ পর্যায়ের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নির্ভর। এর বাইরের চিত্র আরো ভয়াবহ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮৭ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৯ জনকে আর আত্মহত্যা করেছেন দু’জন। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ২১ নারীর ওপর।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস) জানিয়েছে, এ বছরে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা জেলায়। ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে এবং নারায়ণগঞ্জে ৯টি করে, খুলনায় ৬টি এবং যশোর ও সিলেটে ৫টি করে। তাছাড়া গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

প্রসঙ্গত, গত সাড়ে ৫ বছরে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সারা দেশে ধর্ষণের যে চিত্র তুলে ধরেছে তা রীতিমতো ভয়াবহ। তাদের দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সাড়ে ৫ বছরে দেশে ৫ হাজার ২৪৮টি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

‘প্রথম একটি ঘটনা নিয়ে যখন ভিক্টিম ও সাধারণ মানুষ ভয়েস রেইস করে তার রেস কাটতে না কাটতে আবার নতুন কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চাপ ও ক্ষোভ থাকলেও সেটা তারা অনুকূল পরিবেশের অভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে আন্দোলন, বিচার কার্যক্রম, গ্রেপ্তার, সবকিছুতেই ঢিলেঢালা ভাব দেখা যায় এবং ভিক্টিম সঠিক বিচার পায় না। কখনো কখনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবে দোষীরা পার পেয়ে যায়।’ বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্ট-এ কর্মরত আইনজীবী শারমিন আক্তার বলেন, বিচারহীনতায় হলো আসলে মূল কারণ সমাজের এই অবক্ষয়ের।এক্ষেত্রে সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেভাবে আইন হয়েছে যে, শিশু ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে ধর্ষককে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি দেয়া। একইভাবে বাংলাদেশেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

কমেন্টস